মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

রবীন্দ্রনাথ-পরবর্তী বাংলা নাটকের নতুন আলোর দিশারি সেলিম আল দীন। আজ তার আজ ত্রয়োদশ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৮ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নাট্যকার সেলিম আল দীন পশ্চিমা নাট্যরীতিকে পাশ কাটিয়ে কাজ করেছেন দেশীয় ঐতিহ্য নিয়ে, যার নাম দেন ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত¡’। বাংলা নাটকে প্রবর্তন করেন বর্ণনাত্মক ধারা। বাংলাদেশে একমাত্র বাংলা নাট্যকোষেরও প্রণেতা তিনি।  সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখীল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। লেখক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৬৮ সালে, কবি আহসান হাবীব সম্পাদিত দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকার মাধ্যমে। সেলিম আল দীন তার নাটক রচনায় ঐতিহ্যবাহী বাংলা নাটকের রচনারীতি এবং পরিবেশনা শৈলীর নতুন রূপ নির্মাণ করেন। তিনি প্রমাণ করেন বাংলা ভাষায় লিখিত হলেই বাংলা নাটক হয় না; বরং হাজার বছর ধরে বাঙালির নাট্য-নন্দন ভাবনার কাঠামোর ব্যবহারেই বাংলা নাটকের বিকশিত হওয়া প্রয়োজন। বাংলা নাটকের বিকাশ-পরিক্রমায় তিনি কথা-নৃত্য-গীতের বহুমাত্রিক ব্যবহার করেন। তার প্রবর্তিত  নাট্যকৌশল বাংলাদেশে স্বতন্ত্র ধারার নাট্য-আন্দোলনেরও সূচনা করে। নাট্যকার পরিচয়ের বাইরেও তিনি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, সংগঠক, নাট্যনির্দেশক ও শিল্পতাত্তি¡ক। ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সেলিম আল দীন ১৯৮১-৮২ সালে নাট্যনির্দেশক নাসির উদ্দীন ইউসুফকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন গ্রাম থিয়েটার। তার প্রথম রেডিও নাটক ‘বিপরীত তমসায়’। প্রথম মঞ্চনাটক ‘সর্পবিষয়ক গল্প’ ১৯৭২ সালে মঞ্চস্থ হয়। সেই সঙ্গে প্রাচ্য, কীত্তনখোলা, বাসন, আততায়ী, সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান, কেরামত মঙ্গল, হাত হদাই, যৈবতী কন্যার মন, মুনতাসির ফ্যান্টাসি ও চাকা তাকে ব্যতিক্রমধর্মী নাট্যকার হিসেবে পরিচিত করে তোলে। তিনি নাটকে বাংলা জনপদের প্রান্তিক মানুষের চিত্র অসামান্য সারলে ফুটিয়ে তোলেন।  জীবনের শেষ ভাগে তিনি রচনা করেন ‘নিমজ্জন’ নামে মহাকাব্যিক এক উপাখ্যান। বাংলা নাটকের শিকড়সন্ধানী নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, নান্দিকার পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভ‚ষিত হন।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..