মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

ভাষাসৈনিক, শিক্ষাবিদ, সংগঠক এবং সাবেক সমাজকল্যাণ ও মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শাফিয়া খাতুন। ১৯৫১-৫২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী থাকাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীনিবাস চামেলি হাউসের ছাত্রীদের নিয়ে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে এক দুর্জয় প্রতিরোধ সৃষ্টি করেন।

 ড. শাফিয়া খাতুন ১৯৩১ সালের এই দিনে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারীতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে এমএ ও এমএড পাস করার পর তিনি শিক্ষা মনোবিজ্ঞানে ডক্টরেট করেন। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীকালে তিনি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভায় উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার কথা ঘোষণা দিলে ছাত্র-জনতার সঙ্গে ছাত্রনেতা শাফিয়া খাতুনও এর প্রতিবাদ করেন। সে সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসস্থল ‘চামেলি হাউস’-এর ছাত্র সংসদের ভিপি। ১৯৫২ সালের ৪ ফেব্রæয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বনে ছাত্র ধর্মঘট চলাকালীন ছাত্রীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন তিনি। তারই সাংগঠনিক দূরদর্শিতার জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় অনুষ্ঠিত ছাত্রজনতার সমাবেশে বিপুলসংখ্যক ছাত্রীকে নিয়ে আসা সম্ভব হয়। সেদিন তিনি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সব ছাত্রছাত্রীর একসঙ্গে বের হওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। প্রথম দলে যে মেয়েরা ১৪৪ ধারা ভাঙে সে দলে ছিলেন শাফিয়া খাতুন। পরে তার সঙ্গে অন্য মেয়েরাও 

১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে। এসব আন্দোলনে ভাষাসৈনিক সুফিয়া ইব্রাহীম, রওশন আরা বাচ্চু, শামসুন্নাহার, হালিমা খাতুনসহ আরও অনেকে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালে ২২, ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারিতে বিচ্ছিন্নভাবে সুসংগঠিতভাবে স্থানে স্থানে সেসব সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিলে তিনি উপস্থিত থাকেন। এভাবে ভাষা আন্দোলনে শাফিয়া খাতুন বীরত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখেন। এই ভাষাসংগ্রামী ১৯৯৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..