মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

জাতীয় নেতা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মো. মনসুর আলী। তিনি  বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য ভ‚মিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেল হত্যাকাণ্ডে নিহত চার জাতীয় নেতার মধ্যে তিনিও একজন। ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ১৯১৯ সালের এই দিনে সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। গান্ধাইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তার শিক্ষা জীবন শুরু হয় এবং পরে বি.এল স্কুল থেকে এসএসসি পাবনা অ্যাডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচএসসি, কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে অর্থনীতিতে বিএ পাস করে এবং আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৪ সালে প্রথম শ্রেণিতে এমএ এবং এলএলবি পাস করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি পাঁচবার বৃত্তি লাভ করেন। আলীগড় থেকে দেশে ফেরার পর মনসুর আলী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৪৮ সালে তিনি পিএলজির ক্যাপ্টেন পদে অধিষ্ঠিত হয়ে যশোর সেনানিবাসে প্রশিক্ষণ নেন। তখন থেকেই তিনি ‘ক্যাপ্টেন মনসুর’ নামেই পরিচিত হন। ১৯৫১ সালে তিনি আওয়ামী-মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং পাবনা জেলা আদালতে আইন ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৫২ সালে পাবনা শহরে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন ও কারাভোগ করেন। ১৯৫৪ সালে পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, ১৯৫৬ সালে আইন ও সংসদবিষয়ক; খাদ্য ও কৃষি এবং শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি । ১৯৫৮ সালে দেশে সামরিক শাসন জারি হলে তিনি নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হন ও  প্রায় এক বছর আটক থাকেন। ১৯৬৬ সালে বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে যোগাযোগমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল)  গঠন হলে তার সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাত্রিতে অন্য তিন জাতীয় নেতার সঙ্গে তিনিও হত্যার শিকার হন।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..