Print Date & Time : 27 September 2021 Monday 10:09 am

স্মরণীয়-বরণীয়

প্রকাশ: June 20, 2021 সময়- 11:47 pm

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর আজ ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি তার কাব্যযাত্রায় যুগপৎ ধারণ করেছেন দ্রোহ ও প্রেম, স্বপ্ন ও সংগ্রামের শিল্পভাষ্য। নিজেকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন আপামর নির্যাতিত মানুষের আত্মার সঙ্গে হয়ে, উঠেছিলেন তাদেরই কণ্ঠস্বর। রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস বর্তমান বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মিঠাখালী গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮০ সালে সম্মানসহ বিএ এবং ১৯৮৩ সালে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ছোটবেলায় বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন একটি লাইব্রেরি; নাম দেন বনফুল লাইব্রেরি। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি তার স্কুলের আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় প্রথম হন। রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ প্রতিবাদী রোমান্টিক কবি। আশির দশকে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠে যে ক’জন কবি শ্রোতাদের প্রিয় হয়ে ওঠেন, কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাদের মধ্যে অন্যতম। তার রচিত ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’ কবিতা আশির দশকে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ‘সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট’ ও ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ’ গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং জাতীয় কবিতা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৫-পরবর্তী সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ, গণআন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা তার কবিতায় বলিষ্ঠভাবে উপস্থিত। কবিতা ছাড়াও তিনি গীতিকার হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন। রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্য ও ‘ভালো আছি ভালো থেকো আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখ’সহ অর্ধশতাধিক গান রচনা ও সুরারোপ করেছেন। তার রচিত কবিতা- উপদ্রুত উপকূল, ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম, মানুষের মানচিত্র, ছোবল, গল্প দিয়েছিলে সকল আকাশ, মৌলিক মুখোশ, ছোটগল্প সোনালি শিশির, নাট্যকাব্য বিষ বিরিক্ষের বীজ, বড়গল্প মনুষ্য জীবন। ১৯৯১ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কবির স্মরণে বাংলাদেশের মোংলার মিঠাখালীতে গড়ে উঠেছে রুদ্র স্মৃতি সংসদ।

কাজী সালমা সুলতানা