মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

বাংলা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। একই সঙ্গে তিনি অভিনেতা, নট ও নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, আবৃত্তিকার, কবি, চিত্রশিল্পী, এক্ষণ নামে সাহিত্য ও সংস্কৃতি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক। সত্যজিৎ রায়ের ৩৪টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তিনি অভিনয় করেন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ১৯৩৫ সালের এই দিনে কলকাতার নদীয়ার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের আদিবাড়ি ছিল কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কাছে কয়া গ্রামে। সৌমিত্র কলকাতার সিটি কলেজ থেকে আইএসসি ও পরে বিএ অনার্স (বাংলা) পাস করে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ অব আর্টসে দুই বছর পড়াশোনা করেন। কলেজ জীবনেই তার মঞ্চাভিনয়ে হাতেখড়ি। কিছুদিন রেডিওর ঘোষক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৫৮ সালে উপমহাদেশের কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের ‘অপুর সংসার’ চলচ্চিত্রে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিষেক ঘটে। তিনি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় সোনার কেল্লা এবং জয় বাবা ফেলুনাথ ছবিতে ‘ফেলুদার’ ভ‚মিকায় অভিনয় করেন। তার অভিনীত চরিত্রগুলোর ভেতরে সব থেকে জনপ্রিয় হলো ফেলুদা। অভিনয় ছাড়াও তিনি আবৃত্তি, নাটক ও কবিতা পরিচালনা করেছেন। পরবর্তীকালে মৃণাল সেন, তপন সিংহ, অজয় করের মতো পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। সিনেমা ছাড়াও তিনি বহু নাটক, যাত্রা এবং টিভি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। কবিতার বই লিখেছেন ১৪টি। তার লেখা গ্রন্থ শ্রেষ্ঠ কবিতা, মানিকদার সঙ্গে, চরিত্রের সন্ধানে, প্রতিদিন তব গাঁথা, শব্দরা আমার বাগানে, মধ্য রাতের সংকেত, পরিচয়, নাটক সমগ্র-১, নাটক সমগ্র-২ ইত্যাদি। ৬০ বছরের অভিনয় জীবনে তিনি প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের জন্য দেশি-বিদেশি অজস্র পুরস্কার পেয়েছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ২০০৪ সালে পেয়েছেন ভারত সরকারের পদ্মভ‚ষণ সম্মান, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভ‚ষিত হয়েছেন দুবার এবং সিনেমায় তার অবদানের জন্য ২০১২ সালে পেয়েছেন ভারত সরকারের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র খেতাব ‘দাদাসাহেব ফালকে সম্মাননা’। ২০১৭ সালে তিনি ফ্রান্স সরকারের দেয়া  লিজিওন অব অনার-এ ভ‚ষিত হন। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় গত বছর ১৫ নভেম্বর করোনা-পরবর্তী জটিলতায় মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..