মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলনের পথিকৃৎ আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। জম্ন ১৯৪২ সালের ১০ জুন নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন গ্রুপ) ঢাকা হল শাখার সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান সংগঠক। সেই সঙ্গে কৃষক সংগঠকও।

১৯৬৯ সালের এই দিনে পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে এদেশের ছাত্রসমাজের ১১ দফা কর্মসূচির মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে তিনি শহীদ হন। এরপর থেকে প্রতি বছর দিনটি শহীদ আসাদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। মৃত্যুকালীন সময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে এম.এ শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৮ সালে তিনি স্বাধীনতা পদক পান। আসাদ শহীদ হওয়ার পর তিন দিনের শোক পালন শেষে, ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ছয় দফা ও ছাত্রদের ১১ দফার ভিত্তিতে সর্বস্তরের মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার নামে ঢাকাসহ সারা বাংলার রাজপথে। অগণিত ছাত্র-জনতার মিছিলে শহীদ আসাদের রক্তমাখা শার্ট দেখে কবি শামসুর রাহমান রচনা করেন তার অমর কবিতা ‘আসাদের শার্ট’। কবি হেলাল হাফিজ ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাটি লিখেন। আসাদের মৃত্যুতে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আলোকচিত্র শিল্পী রশীদ তালুকদার তার ক্যামেরায় ছাত্র-জনতার দীর্ঘ মিছিলসহ আসাদের শার্টের ছবি তোলেন। আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক।

আসাদের মৃত্যুতে ঊনসত্তরের গণআন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে ফেলে। ‘আইয়ুব গেট’ হয়ে যায় ‘আসাদ গেট’, ‘আইয়ুব অ্যাভিনিউ’ হয়ে যায় ‘আসাদ অ্যাভিনিউ’। পতন ঘটে আইয়ুব খান সরকারের। ক্ষমতায় আসেন আরেক স্বৈরশাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান। তিনি ক্ষমতায় বসে সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন। গণঅভ্যুত্থানের সিঁড়ি বেয়ে ১৯৭০ সালের অভূতপূর্ব নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু ইয়াহিয়া ক্ষমতা না ছেড়ে বাঙালির ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়। শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। এ যুদ্ধে বাঙালি বিজয়ী হয়ে প্রতিষ্ঠা করে স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..