Print Date & Time : 27 September 2021 Monday 10:48 am

স্মরণীয়-বরণীয়

প্রকাশ: July 20, 2021 সময়- 12:24 am

সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক কমল দাশগুপ্তের আজ ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রের শত শত গানের সুরকার, আধুনিক বাংলা গানের সুরস্রষ্টা, গ্রামোফোন রেকর্ড কোম্পানির সংগীত পরিচালক এবং সর্বাধিক নজরুল গীতির সুরকার।  তার সংগীত পরিচালনায় ৮০টি চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘যোগাযোগ’, ‘শেষ উত্তর’, ‘চন্দ্রশেখর’ ও ‘শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য’ শ্রেষ্ঠ পুরস্কারে ভূষিত হয়। তিনি হিজ মাস্টার্স ভয়েস গ্রামোফোন কোম্পানির সংগীত পরিচালক ও সুরকার ছিলেন। এইচএমভিতে এক মাসে তিনি ৫৩টি গান রেকর্ড করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। কমল দাশগুপ্ত ১৯১২ সালের ২৮ জুলাই নড়াইলে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম কমলপ্রসন্ন দাশগুপ্ত। ১৯২৮ সালে তিনি ম্যাট্রিক এবং কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে বিকম পাস করেন। সহোদর বিমল দাশগুপ্তের নিকট তার সঙ্গীতে হাতেখড়ি। ১৯৪৩ সালে তিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট অব মিউজিক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ভজন, উচ্চাঙ্গ সংগীত, নজরুলগীতিসহ সংগীতের সব শাখায় সমান দক্ষ ছিলেন। তার সুর দেয়া ও গাওয়া ‘তুফান মেল’, ‘শ্যামলের প্রেম’, ‘এই কি গো শেষ দান’ চলচ্চিত্রের এ গানগুলো ভীষণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। এছাড়া তার সঙ্গীত পরিচালনায় ‘সাঁঝের তারকা আমি’, ‘আমি ভোরের যূথিকা’ প্রভৃতি গানও জনপ্রিয়তা পায়। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর রণসঙ্গীত ‘কদম কদম বাড়ায়ে যা’ তার অনবদ্য সৃষ্টি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার প্রপাগান্ডা ছবির নেপথ্য সংগীতেও কাজ করেন। ১৯৫৭ সালে তিনি বাংলাদেশের নজরুল সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগমকে বিয়ে করেন। তার সুরারোপিত গানের সংখ্যা প্রায় আট হাজার। সংগীতের ক্ষেত্রে তার মৌলিক অবদান স্বরলিপির শর্টহ্যান্ড পদ্ধতির উদ্ভাবন এবং আকারমাত্রিক পদ্ধতি ও স্টাফ নোটেশন পদ্ধতির স্বরলিপি স্থাপন। সংগীত পরিচালক হিসেবে তার শেষ ছবি ছিল ‘বধূবরণ’। কমল দাশগুপ্ত ১৯৭৪ সালের ২০ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা