মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

কবি, গীতিকার ও সংগীতশিল্পী রজনীকান্ত সেনের আজ ১৫৬তম জন্মদিন। বাংলা সাহিত্য ও গান এবং বাঙালির স্বদেশপ্রেম যাদের প্রেরণায় ঋদ্ধ ও উজ্জীবিত হয়েছে, তাদের অন্যতম কবি, গীতিকার ও সুরকার রজনীকান্ত সেন। তিনি ১৮৬৫ সালের ২৬ জুলাই পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার ভাঙ্গাবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রজনীকান্তের বাবা গুরুপ্রসাদ সেন দক্ষ সংগীতজ্ঞ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। বাবার কাছে একটি বাঁশিতেই তার সংগীতের  অনুশীলন শুরু হয়। ১৫ বছর বয়সে রজনীকান্ত কালীসংগীত রচনা করেন। শৈশবে রজনী খুবই দুরন্ত ছিলেন এবং খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতেন। তিনি  কলকাতা সিটি কলেজ থেকে ১৮৯১ সালে বিএ ও বিএল পাস লাভ করে রাজশাহী কোর্টে ওকালতি শুরু করেন। কিছুদিন তিনি নাটোর ও নওগাঁয় অস্থায়ী মুন্সেফ ছিলেন। তবে তাতে তিনি মনোনিবেশ করতে পারেননি। তার নিজের লেখাতেই পাওয়া যায়‘আমি আইন ব্যবসায়ী, কিন্তু ব্যবসা করিতে পারিনি।’ আইন পেশার পাশাপাশি তিনি সংগীত, সাহিত্য, নাটক অভিনয় প্রভৃতি ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হন। রাজশাহীতে বিভিন্ন সাহিত্যসভা, মজলিশ ও অনুষ্ঠানে তিনি স্বরচিত গান পরিবেশন করতেন। সেসময় স্থানীয় ‘উৎসাহ’ পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হয়। রজনীকান্ত নিয়মিত কবিতা রচনা করেন এবং তিনি কান্তকবি নামে খ্যাত হন। তার মোট গানের সংখ্যা ২৯০টিরও বেশি। তিনি  মূলত ভক্তিমূলক, দেশাত্মবোধক ও হাস্যরসাত্মক জীবনের গান গেয়েছেন। তার প্রথম গ্রন্থ ১৯০২ সালে প্রকাশিত হয়। জীবিত থাকাকালে তিনটি গ্রন্থ রচনা করেন তিনি। সেগুলো হলো বাণী, কল্যাণী ও অমৃত। মৃত্যুর পর তার আরও পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়। সেগুলো হলো অভয়া, আনন্দময়ী, বিশ্রাম, সদ্ভাবকুসুম ও শেষদান। রজনীকান্ত সেনকে বলা হয় স্বদেশী আন্দোলনের যুগের কবি। ১৯০৫ সালে ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠে ‘মায়ের দেয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নে রে ভাই, দীন-দুখিনী মা যে মোদের তার বেশি আর সাধ্য নাই’ গান সাধারণ মানুষকে স্বদেশী আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করে। ১৯১০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..