মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

সুভাষচন্দ্র বসু, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব, কংগ্রেস দলের বামপন্থি নেতা, ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতিষ্ঠাতা ও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সর্বাধিনায়ক। তিনি ‘নেতাজী’ নামে সমধিক পরিচিত। তার বিখ্যাত উক্তি আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব। সুভাষচন্দ্র বসু ১৮৯৭ সালের এই দিনে বর্তমান উড়িষ্যা রাজ্যের কটক শহরে (ওডিয়া বাজার) জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্র হিসেবে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি। ১৯১৮ সালে তিনি স্কটিশচার্চ কলেজ থেকে দর্শনশাস্ত্রে অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯১৯ সালে উচ্চ শিক্ষার্থে তিনি ইংল্যান্ড যান। ১৯২১ সালে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (আইসিএস) পরীক্ষায় চতুর্থ হয়ে সুভাষ চাকরিতে যোগদান করেন। কিন্তু অনতিবিলম্বে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে চাকরি ছেড়ে দিয়ে চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে ভারতের জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যোগ দেন। সুভাষচন্দ্র পরপর দু-বার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে আদর্শগত সংঘাত এবং কংগ্রেসের বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করার জন্য তাকে পদত্যাগ করতে হয়। সুভাষচন্দ্র মনে করতেন, মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার এবং সত্যাগ্রহ নীতি ভারতের স্বাধীনতা আনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। এ কারণে তিনি তিনি সশস্ত্র বিদ্রোহের পক্ষপাতী ছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি ফরওয়ার্ড ব্লক নামক একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনালগ্নে ভারতে ব্রিটিশদের আক্রমণ করার জন্য সহযোগিতা লাভের উদ্দেশ্যে তিনি গোপনে ভারত ত্যাগ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন, জার্মানি ও জাপান ভ্রমণ করেন। জাপানিদের সহযোগিতায় তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজ পুনর্গঠন করেন এবং পরে তার নেতৃত্ব দান করেন। ২০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ব্রিটিশ শাসক তাকে ১১ বার কারারুদ্ধ করে। বন্দি জীবনে তাকে ভারত ও রেঙ্গুনের বিভিন্ন জায়গায় রাখা হয়। ১৯৩০ সালে তাকে ইউরোপে নির্বাসিত করা হয়। বিপ্লবী এ মহান নেতার মৃত্যু নিয়ে আজও রহস্য রয়ে গেছে। তবে মনে করা হয়, ১৯৪৫ সালের ১৮ আগস্ট তাইওয়ানে বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..