মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

লোকসাহিত্যের পথিকৃৎ বাঙালি পুরাতত্ত্ববিদ সাহিত্যরত্ন মুনশি আশরাফ হোসেনের ৫৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৬৫ সালের এদিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কবি, গবেষক, পুঁথি ও লোকসাহিত্য সংগ্রাহক মুনশি আশরাফ হোসেনের সাহিত্যজীবন শুরু ১৯১৮ সালে। প্রথম দিকে তিনি বিভিন্ন সাময়িকী ও পত্রপত্রিকায় স্থানীয় সমস্যা নিয়ে লেখালেখি করেন। এ সময় তিনি লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তার সংগৃহীত ‘মণিপুরের লড়াই’ দীনেশচন্দ্র সেন তার Eastern Bengal Ballads গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি ১২টি মৌলিক গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। এর মধ্যে আছে আশরাফ দেওয়ানা, ভূমিকম্পের কবিতা, আদম খাঁ দেওয়ানের গীত প্রভৃতি। এছাড়া তিনি ১৭টি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করেন। যেমনÑমক্তবি বাল্যশিক্ষা, সাহিত্য সুধা, নববিধান ধারাপাত প্রভৃতি। মাসিক আল ইসলাহ পত্রিকায় তার রচিত সিলহটের ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। তার মধ্যে দিলকুশ কন্যার বারমাসী, শান্তিকন্যার বারমাসী, লিলাইর বারমাসী, মধুমালার গীত প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। মুনশি আশরাফ হোসেন ১৮৯২ সালে সিলেটে কমলগঞ্জ থানার রহিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্থানীয় মক্তবে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। কওমি মাদরাসায় পাঁচ বছর শিক্ষালাভের পর তিনি ‘মুনশি’ উপাধি লাভ করেন। পরে তিনি কালীপ্রসাদ মধ্য ইংরেজি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯১৮ সালে নিজের গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ১৯২২ সালে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন। এ বছরই তিনি শিলচর নর্মাল স্কুল থেকে গুরু ট্রেনিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। মুনশি আশরাফ হোসেন সংস্কৃতি ও সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৫ সালে তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক তমগা-ই-কায়েদে আজম উপাধি লাভ করেন। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ আশরাফ হোসেন মুর্শিদাবাদ বঙ্গ সাহিত্য মণ্ডল কর্তৃক ‘পুরাতত্ত্ববিদ’ (১৯৩৫), নিখিল বঙ্গ সাহিত্য সঙ্ঘ কর্তৃক ‘সাহিত্যরত্ন’ ও ‘কাব্যবিনোদ’ (১৯৫২) ও ‘তমঘা-ই-কায়েদে আযম’ (১৯৬৫) উপাধি লাভ করেন। আসাম সরকার তাকে সাহিত্য বৃত্তি (১৯৪৩) এবং বাংলা একাডেমি আর্থিক সাহায্যও প্রদান করে।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..