মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

মহাকবি, নাট্যকার, বাংলা কাব্যে সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলেজে অধ্যয়নকালেই মধুসূদন কাব্যচর্চা শুরু করেন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফার্সি ভাষা শেখেন। ১৮৩৪ সালে তিনি কলেজের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ইংরেজি ‘নাট্যবিষয়ক প্রস্তাব’ আবৃত্তি করে প্রশংসিত হন। এ সময় নারীশিক্ষা বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৮৪৩ সালে তিনি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং ‘মাইকেল’ যুক্ত করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাম ধারণ করে, ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। এ সময় তিনি বিশপ্স কলেজে ভর্তি হন। এখানে পড়ার সময় তিনি ইংরেজি ছাড়াও গ্রিক, ল্যাটিন ও সংস্কৃত ভাষা শেখার সুযোগ পান। ধর্মান্তরের কারণে মধুসূদনকে তার বাবা একসময় অর্থ পাঠানো বন্ধ করে দেন। অগত্যা মধুসূদন ১৮৪৮ সালে মাদ্রাজ গমন করেন। সেখানে তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন। মাদ্রাজেই তিনি সাংবাদিক ও কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। সেখানে তিনি হিব্রু, জার্মান, ইতালিয়ান, তামিল ও তেলেগু ভাষা শেখেন। ‘কপোতাক্ষ নদ’ তার অন্যতম সনেট কবিতা। তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত ‘মেঘনাদবধ’ মহাকাব্য। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার করে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন। ‘দ্য ক্যাপটিভ লেডি’, ‘শর্মিষ্ঠা’, ‘কৃষ্ণকুমারী’ (নাটক), ‘পদ্মাবতী’ (নাটক), ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’, ‘একেই কি বলে সভ্যতা’, ‘তিলোত্তমাসম্ভব’, ‘বীরাঙ্গনা’, ‘ব্রজাঙ্গনা’, ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’, ‘হেকটর বধ’ প্রভৃতি তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। এছাড়া ইংরেজি ভাষায় ৫টি গ্রন্থ প্রকাশ করেন।

উনিশ শতকের বাঙালি নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ মধুসূদন। পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শে ইংরেজিতে শিক্ষিত সমকালীন বাঙালির জীবনদর্শন ও রুচির উপযোগী করে তিনি তা কাব্যে রূপায়িত করেন; সূচনা করেন বাংলা সাহিত্যে এক নবযুগের। তিনি বাংলা ভাষার অন্তর্নিহিত শক্তি আবিষ্কার করে এই ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষসাধন করেন। এ কারণেই তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘মধুকবি’ নামে পরিচিত।

০০০০০০০০০০০০

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..