মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

চিত্রশিল্পী, নকশাবিদ, ভাস্কর, শিল্প-উদ্যোক্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা নিতুন কুণ্ডুর পঞ্চদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ‘সাবাশ বাংলাদেশ’, ‘সার্ক ফোয়ারা’সহ অনেক বিখ্যাত ভাস্কর্যের স্থপতি। নিতুন কুণ্ডু আসবাবপত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘অটবি’ স্থাপন করেন ও সফলতা লাভ করেন। তার অবদানের জন্য ১৯৯৭ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদকে ভূষিত হন। নিতুন কুণ্ডু ১৯৩৫ সালের ৩ ডিসেম্বর দিনাজপুর শহরের ‘বড়বন্দর’ এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালে দিনাজপুর শহরের মহারাজা গিরিজা নাথ হাইস্কুল থেকে তিনি মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৫৩ সালে বিখ্যাত অভিনেতা-পরিচালক সুভাষ দত্ত চলচ্চিত্রের কাজে দিনাজপুরে এলে নিতুন কুণ্ডুর সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। সুভাষ দত্ত নিতুন কুণ্ডুর সুন্দর হাতের লেখার জন্য সিনেমা হলের ডেকোরেশন, ব্যানার ও সাইন বোর্ড লেখার সহকারী হিসেবে তাকে সঙ্গে নেন। এরপর তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকার চারুকলা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন এবং ১৯৫৪ সালে চিত্রশিল্পে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক পাস করেন। ১৯৫৯-১৯৭১ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি ঢাকার মার্কিন তথ্যকেন্দ্রে (ইউসিস) কাজ করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের অধীনে তথ্য ও প্রচার বিভাগে ডিজাইনার হিসেবে যোগদান করেন। ওই সময়ে তার আঁকা পোস্টারের স্লোগান ছিল সদাজাগ্রত বাংলার মুক্তিবাহিনী, বাংলার বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলার হিন্দু, বাংলার মুসলমান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার খ্রিষ্টান-আমরা সবাই বাঙালি। ১৯৭৫ সালে তিনি গড়ে তোলেন ‘অটবি’ নামে একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। চিত্রশিল্পী নিতুন কুণ্ডু  চারটি একক চিত্রপ্রদর্শনী ছাড়াও দেশ-বিদেশে বহু যৌথ চিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন। নিতুন কুণ্ডু দেশে নির্মিত অনেক ভাস্কর্য, ম্যুরাল, জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পুরস্কার ও পদকের নকশাকার। চিত্রশিল্পী ও শিল্পপতি হিসেবে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি লাভ করেন জাতীয় চিত্রকলায় পুরস্কার, চিত্রকলায় স্বর্ণপদক ‘একুশে পদক’ ইত্যাদি। ২০০৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কাজী সালমা সুলতানা ��M�n��ޑ=z

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..