স্মরণীয়-বরণীয়

বাংলাদেশের সংগীত জগতের কিংবদন্তি গীতিকার ও বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং বহুমুখী প্রতিভার একটি অনন্য নাম ড. আবু হেনা মোস্তফা কামালের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ মার্চ সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ার নাগরৌহা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আবু হেনা মোস্তফা কামাল ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ অনার্স এবং ১৯৫৯ সালে বাংলায় এম.এ পাস করেন। স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণা ‘দি বেঙ্গলি প্রেস অ্যান্ড লিটারারি রাইটিং’ ১৮১৮-১৮৩১ শীর্ষক অভিসন্দর্ভ রচনা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। আবু হেনা মোস্তফা কামাল কলেজে শিক্ষকতার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৬২ সালে তিনি জনসংযোগ পরিদপ্তরে সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন। ছাত্রাবস্থা থেকেই তিনি সংস্কৃতিসেবী হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। জীবনের প্রথম দিকে তদানীন্তন পূর্ব বাংলার রেডিও, টেলিভিশনের একজন খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী হিসেবে তিনি পরিচিতি পান। গীতিকার, গায়ক, সুবক্তা ও টেলিভিশনের জনপ্রিয় উপস্থাপক হিসেবে সংস্কৃতির প্রায় সব ক্ষেত্রে তিনি প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। আবু হেনা মোস্তফা কামাল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রায় দুই হাজারের মতো গান লিখেছেন। সাময়িক পত্রিকায় সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সরস কলাম লিখেও তিনি প্রশংসিত হন। তার প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য রচনা কাব্য : ‘আপন যৌবন বৈরী’, ‘যেহেতু জš§ান্ধ’, ‘আক্রান্ত গজল’। গীতিগ্রন্থ; ‘আমি সাগরের নীল’। প্রবন্ধ; ‘শিল্পীর রূপান্তর’, ‘কথা ও কবিতা’। ১৯৯৫ সালে তার দুই শতাধিক গান নিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রকাশ করে গ্রন্থ ‘আমি সাগরের নীল’। সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, সুহƒদ সাহিত্য স্বর্ণপদক, একুশের পদকসহ নানা পদক ও সম্মাননা অর্জন করেন। ১৯৮৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা

সর্বশেষ..