মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

মেক্সিকান কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, ছোটগল্পকার, অনুবাদক ও প্রাবন্ধিক হোসে এমিলিও পাচেকো বার্নির আজ ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৪ সালের আজকের এই দিনে তিনি মেক্সিকো সিটিতে মৃত্যুবরণ করেন। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে তিনি হƒদরোগে আক্রান্ত হন। বিশ শতকের মেক্সিকোর কবিদের মধ্যে হোসে এমিলিও প্রধান কবি হিসেবে বিবেচিত হন। ২০০৯ সালে তিনি সাহিত্যে অবদানের জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ সে দেশের অন্যতম কারভানটিস প্রি পুরস্কার লাভ করেন। হোসে এমিলিও পাচেকো ১৯৩৯ সালের ৩০ জুন মেক্সিকো শহরে জন্মগ্রহণ করেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই কবির প্রথমদিকের কবিতায় চলচ্চিত্র চিন্তার ছাপ পাওয়া যায়। আবার পরবর্তীকালের কবিতায় ভাবুক গদ্যের গুণাবলি খুঁজে পাওয়া যায়। কবি হোসে এমিলিও পাচেকো রেইনা সোফিয়া পুরস্কার ২০০৯, ফেদেরিকো গারসিয়া লোরকা পুরস্কার ২০০৫, অক্তাভিও পাজ পুরস্কার ২০০৩, পাবলো নেরুদা পুরস্কার ২০০৪ ছাড়াও অনেক পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ১৯৮৬ সাল থেকে মেক্সিকোর জাতীয় কলেজের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। লেখক হিসেবে নিজ দেশের এবং ওই সময়ের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন হোসে এমিলিও পাচেকো। তার সাহিত্যকর্ম দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তার লেখার বেশিরভাগ শিরোনাম ছিল: মরুভূমিতে যুদ্ধ, আনন্দের শুরু, আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন না কীভাবে সময় উড়ে যায় ইত্যাদি। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয় তার। এ সময়ে সে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও বুদ্ধিজীবীরা তার বাড়িতে মিলিত হতেন এবং সাহিত্য বিষয়ে আলোচনা করতেন। স্নাতক পাস করার পর হোসে এমিলিও মেক্সিকো জাতীয় স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। কিন্তু আইন পেশায় নিয়োজিত না হয়ে তিনি সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। সংবাদপত্রের নিয়মিত সহযোগিতার কারণে হোসে এমিলিও খুব অল্প বয়সেই সাহিত্য জগতে অনন্য সাধারণ স্বীকৃতি অর্জন করেন। ১৯৬৩ সালে হোসে এমিলিও পাচেকো বার্নি আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি রচনা প্রকাশ করেন। ১৯৭৩ সালে হোসে এমিলিও পত্রিকায় কলাম লিখতে শুরু করেন। এই কলামটি সে সময়ে বিপুলভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। 

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..