স্মরণীয়-বরণীয়

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার মেজর নাজমুল হক। তিনি ৭ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলের দশম খণ্ড ও মেজর রফিকুল ইসলামে লেখা ‘লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে’ বইতে শহীদ মেজর নাজমুলের বীরত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মেজর নাজমুল হক ১৯৩৮ সালের ১ আগস্ট চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার আমিরাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকার আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে (বর্তমানে বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৬২ সালের ১৪ অক্টোবর প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ৪৩ লাইট অ্যান্টি-এয়ারক্র্যাফট রেজিমেন্ট আর্টিলারিতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। মেজর নাজমুল হক ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। চাকরিকালে তিনি বিভিন্ন আর্টিলারি ইউনিট, সেনাসদর ও গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৮ মার্চ তাকে নওগাঁয় ৭ ইপিআর উইংয়ের অধিনায়ক করে পাঠানো হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর অপারেশন সার্চলাইট শুরু হলে পরদিন তিনি স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে নওগাঁ মহকুমাকে শত্রুমুক্ত স্বাধীন বাংলার অংশ হিসেবে ঘোষণা করেন। স্বেচ্ছাসেবক যুবকদের নিয়ে তিনি নওগাঁ ও বগুড়ার পাকিস্তানি হানাদারদের ক্যাম্প দখল করে গোটা বগুড়া জেলাকে শত্রুমুক্ত করেন। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার মেজর নাজমুল হককে রাজশাহী-পাবনা অঞ্চলের আঞ্চলিক অধিনায়ক নিযুক্ত করে। মেজর নাজমুল হক ৭ নম্বর সেক্টরপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সেক্টরে প্রায় ১৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন। তারা সোনা মসজিদ এলাকা, কানসাট, শিবগঞ্জ, আরগরারহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় পাক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপারেশন চালিয়ে সাফল্য অর্জন করেন। একাত্তরের ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৩৩ কোরের সদর দপ্তর শিলিগুড়িতে ভারত ও বাংলাদেশের সেনাকর্মকর্তাদের এক সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনে তিনি ৭ নম্বর সেক্টরের অপারেশনের সাফল্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সেক্টরের সমস্যাগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরেন। সম্মেলন শেষে সেক্টর হেডকোয়ার্টার্সে ফেরার পথে ১৯৭১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি জিপ দুর্ঘটনায় নিহত হন। পরবর্তী সময়ে মেজর কাজী নুরুজ্জামান এই সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা

সর্বশেষ..