স্মরণীয়-বরণীয়

বাংলাদেশের একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সর্বকনিষ্ঠ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান। মহান মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৭১ সালের  ২৮ অক্টোবর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত অবস্থায় তিনি নিহত হন। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খালিশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং পরে স্থানীয় একটি নৈশ বিদ্যালয়ে সামান্য লেখাপড়া শেখেন। ১৯৭১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে চট্টগ্রামের ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারে (ইবিআরসি) প্রশিক্ষণে যান। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ইবিআরসিতে হামলা চালিয়ে দুই হাজার ৫০০ রিক্রুটসহ দুই হাজার ৫০০ বাঙালি সৈনিকদের হত্যা করে। সে সময় হামিদুর রহমান পালিয়ে হেঁটে গ্রামে চলে যান এবং যশোরে অবস্থানরত ১ ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। পরদিনই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়ার জন্য তিনি চলে যান সিলেটের ধলই বর্ডার আউট পোস্টে। ১৯৭১ সালে প্রথম ইস্ট বেঙ্গলের সি কোম্পানির হয়ে ধলই সীমান্তের ফাঁড়ি দখল করার অভিযানে সঙ্গীদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পাহাড়ি খালের মধ্য দিয়ে বুকে হেঁটে গ্রেনেড নিয়ে আক্রমণ করেন। মুক্তিবাহিনী লক্ষ্যস্থলের কাছে পৌঁছালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী মেশিনগানের গুলিবর্ষণ করতে থাকে। হামিদুর রহমানের গ্রেনেড আক্রমণে মেশিনগান পোস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনিও গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায়ই তিনি পাকিস্তানি সৈন্যের সঙ্গে হাতাহাতি যুদ্ধ চালিয়ে যান। এ সুযোগে মুক্তিযোদ্ধারা সীমানা ফাঁড়িটি দখল করে নেন। কিন্তু হামিদুর রহমান শহীদ হন। ফাঁড়ি দখলের পর মুক্তিযোদ্ধারা তার লাশ উদ্ধার করে। সেদিন তিনি প্রথম ইস্টবেঙ্গলের সৈনিক হিসেবে ধলই সীমান্তে পাকিস্তানি সৈন্যদের ফাঁড়ি দখলের অভিযানে অংশ নেন। মুক্তিযোদ্ধারা পরে হামিদুর রহমানকে ত্রিপুরার হাতিমেরছড়া গ্রামে দাফন করেন। ২০০৭ সালের ১১ ডিসেম্বর ত্রিপুরা থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে ঢাকার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..