স্মরণীয়-বরণীয়

প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞান গবেষক আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন। বাংলাদেশের বিজ্ঞান লেখকদের মধ্যে তিনিই একমাত্র ইউনেস্কো কলিঙ্গ পুরস্কার লাভ করেন। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষাদানে তার অসামান্য অবদান রয়েছে। আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জের ফুলবাড়ী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি আই এ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষে পড়ার সময় তিনি মুকুল ফৌজ আন্দোলনে যোগ দেন ও পরবর্তী বছরে মুকুল নামে কিশোর পত্রিকা বের করেন। ১৯৪৮ ও ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক তিনি আটক হন। আল-মুতী বাংলা ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালে তিনি পদার্থবিদ্যায় সম্মানসহ স্নাতক হন। এরপর শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে তিনি শিক্ষায় এমএ এবং ১৯৬২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। আবদুল্লাহ আল-মুতী রাজশাহী সরকারি কলেজের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। টানা চার বছর তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। তার প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮। বইগুলোর মধ্যে বিজ্ঞান ও মানুষ, এ যুগের বিজ্ঞান, বিপন্ন পরিবেশ, বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা, সাগরের রহস্যপুরী, মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বেতার এবং টেলিভিশনে তার উপস্থাপিত অনুষ্ঠান বিশেষভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। আবদুল্লাহ আল-মুতী বিজ্ঞান শিক্ষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক এবং ড. কুদরাত-এ-খুদা স্বর্ণপদকসহ একডজনের অধিক পুরস্কার লাভ করেন। তিনি বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষের প্রধান সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি কচিকাঁচার মেলা বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, বিজ্ঞান সংস্কৃতি পরিষদ ও বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৯৮ সালের ৩০ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯২২  জন  

সর্বশেষ..