স্মরণীয়-বরণীয়

আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠাতা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও আইনজীবী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর বাঙালির যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উম্মেষ ঘটে, তার নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার প্রচেষ্টায় ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণীত হয়। তিনি ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (সম্মান) ও বিসিএল ডিগ্রি লাভ এবং লন্ডনের গ্রেইজ ইন থেকে ব্যারিস্টার অ্যাট ল সম্পন্ন করেন। কলকাতায় রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু করে তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে নাবিক, রেল কর্মচারী, পাটকল ও সুতাকল কর্মচারী, রিকশাচালক, গাড়িচালক প্রভৃতি মেহনতি মানুষের প্রায় ৩৬টি ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন গড়ে তোলেন। সোহরাওয়ার্দী ১৯২০ সালে কলকাতা খেলাফত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন। তিনি ১৯২৬ সালে ইন্ডিপেন্ডেন্ট মুসলিম পার্টি, ১৯৩৭ সালে ইউনাইটেড মুসলিম পার্টি গঠন করে নিজে দলের সম্পাদক হন। এ সময়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিলে তিনি নিজ দলসহ মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে বাংলায় ১২১টি আসনের মধ্যে ১১৪টিতে মুসলিম লীগের বিজয়ে তিনিই মূল ভূমিকা রাখেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানে না এসে কলকাতায় দাঙ্গাবিরোধী শান্তি মিশনে নিয়োজিত হন। তিনি ১৯২৪ সালে কলকাতা করপোরেশনের ডেপুটি মেয়র, ১৯৩৭ সালে ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্যমন্ত্রী, ১৯৪৩-৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহমন্ত্রী, ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৯১  জন  

সর্বশেষ..