স্মরণীয়-বরণীয়

ভাষাসৈনিক, শিক্ষাবিদ ও সংগঠক অধ্যাপক ড. শাফিয়া খাতুন। ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের একমাত্র আবাসস্থল চামেলি হাউস ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন তিনি। ড. শাফিয়া খাতুন ১৯৩১ সালের ১৫ জানুয়ারি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলাধীন বিন্নাগারী (বর্তমান দক্ষিণ বত্রিশ হাজারী) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে এমএ, ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনসটিটিউট থেকে এমএড এবং ১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি অধ্যাপক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে যোগ দেন। তিনি ১৯৭৭ সালে বিপিএসসির সদস্য এবং ১৯৮৩ সালে সমাজকল্যাণ ও মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভায় উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার কথা ঘোষণা দিলে ছাত্র-জনতার সঙ্গে ছাত্রনেতা শাফিয়া খাতুনও এর প্রতিবাদ করেন। ১৯৫২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে ছাত্র ধর্মঘট চলাকালে ছাত্রীদের মিছিলে নেতৃত্ব দেন তিনি। চামেলি হাউসে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে বেশ কয়েকটি বৈঠক, সমাবেশ ও মিছিলে তিনি নেতৃত্ব দেন। তারই সাংগঠনিক দূরদর্শিতার জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় অনুষ্ঠিত ছাত্রজনতার সমাবেশে বিপুলসংখ্যক ছাত্রীকে নিয়ে আসা সম্ভব হয়। তিনি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সব ছাত্রছাত্রীর একসঙ্গে বের হওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। প্রথম দলে যে মেয়েরা ১৪৪ ধারা ভাঙে, সে দলে ছিলেন শাফিয়া খাতুন। পরে তার সঙ্গে অন্য মেয়েরাও ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেন। ১৯৫২ সালে ২২, ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারিতে বিচ্ছিন্নভাবে সুসংগঠিতভাবে স্থানে স্থানে সেসব সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিলে তিনি উপস্থিত থাকেন। ভাষা আন্দোলনে তার ভূমিকার কথা স্মরণ করে ঢাকা সিটি করপোরেশন ধানমন্ডিতে একটি রাস্তার নামকরণ করেছে ‘ভাষাসৈনিক শাফিয়া খাতুন সড়ক’। ১৯৯৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৬২  জন  

সর্বশেষ..