প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্মরণীয়-বরণীয়

বাংলা চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের আজ অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সুদীর্ঘ ২৫ বছরের অভিনয় জীবনে তিনি বাংলা ও হিন্দি মিলে মোট ৬১টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। সুচিত্রা সেন ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল পাবনায় জš§গ্রহণ করেন। শৈশব কেটেছে সেখানেই। তার জš§গত নাম রমা দাশগুপ্ত। পৈতৃক নিবাস সিরাজগঞ্জ জেলায়। ১৯৫২ সালে তিনি ‘শেষ কোথায়’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। তবে এই ছবিটি মুক্তি পায়নি। তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম বাংলা সিনেমা ‘সাত নম্বর কয়েদি’। ১৯৫৩ সালে মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবি করে তিনি সাড়া ফেলে দেন চলচ্চিত্রাঙ্গনে। রূপালি পর্দায় সুচিত্রা সেনের নায়ক হিসেবে অভিনয় করে সবচেয়ে বেশি সফল হন মহানায়ক উত্তম কুমার। উত্তম-সুচিত্রা জুটির ৩০টি বাংলা সিনেমা সাফল্য পায়। তার অভিনীত প্রথম হিন্দি ছবি দেবদাস (১৯৫৫)। এই ছবির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জেতেন। ১৯৭৮ সালে ‘প্রণয় পাশা’ সিনেমায় অভিনয়ের পর তিনি চলচ্চিত্র থেকে অবসরগ্রহণ করেন। এরপর থেকে প্রায় ৩৬ বছর তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকেন। মহানায়িকা সুচিত্রা সেন ১৯৬৩ সালে ‘সাত পাকে বাঁধা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সিলভার প্রাইজ ফর বেস্ট অ্যাকট্রেস’ পদক লাভ করেন। তিনিই প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি কোনো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হন। ১৯৭২ সালে তিনি ভারত সরকারের পদ্মশ্রী সম্মান ও ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্গবিভূষণ সম্মাননা লাভ করেন। ২০০৫ সালে সুচিত্রা সেনকে ভারতের চলচ্চিত্রাঙ্গনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার দেয়ার প্রস্তাব করা হলে সুচিত্রা সেন দিল্লিতে গিয়ে ওই সম্মান গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সুচিত্রা সেনের অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিÑঅগ্নি পরীক্ষা, দেবদাস, শাপমোচন, সবার উপরে, সাগরিকা, ত্রিযামা, শিল্পী, হারানো সুর, পথে হল দেরী, রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত, ইন্দ্রানী, প্রিয় বান্ধবী, দ্বীপ জ্বেলে যাই, চাওয়া পাওয়া, হসপিটাল, বোম্বাই কা বাবু, সপ্তপদী, সাত পাকে বাঁধা, উত্তর ফাল্গুনী, গৃহদাহ, আলো আমার আলো, দেবী চৌধুরাণী, আঁধি, দত্তা ইত্যাদি।

কাজী সালমা সুলতানা