প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্মরণীয়-বরণীয়

প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের আজ দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯৫৬ সালের পহেলা জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ভারতের আগরতলায় যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ঢাকায় ফিরে ‘ওয়াই (ইয়াং) প্লাটুন’ নামে একটি গেরিলা দল গঠন করে প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধকালে ‘ওয়াই প্লাটুন দুই নম্বর সেক্টরের ক্যাপ্টেন এটিএম হায়দারের অধীনে ছিল। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল যুদ্ধ চলাকালে একাধিকবার পাকিস্তানি বাহিনী ও শান্তি কমিটি দ্বারা নির্যাতনের শিকার হন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রমনা থানা থেকে আহতাবস্থায় মুক্তিবাহিনী তাকে উদ্ধার করে।  আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৭৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে সংগীত পরিবেশনায় যুক্ত হন। ১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলি বাদল’ ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তার কাজ শুরু। ১৯৮৪ সালে তিনি বেলাল আহমেদের পরিচালিত ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রের গীত রচনা ও সংগীত পরিচালনা করেন। এই চলচ্চিত্রে তার লেখা ‘আমার সারাদেহ খেয়োগো মাটি’, ‘আমার বাবার মুখে’, ‘আমার বুকের মধ্যেখানে’ ও ‘আমি তোমার দুটি চোখের দুটি তারা হয়ে’এ গানগুলো অসম্ভব জনপ্রিয়তা পায়। একটি চলচ্চিত্রের সব গানই জনপ্রিয়তা পেয়েছে, এমন নজির বিরল। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনশ’রও বেশি সিনেমায়। তার রচিত গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘একাত্তরের মা-জননী, কোথায় তোমার…’, ‘জীবন ফুরিয়ে যাবে ভালোবাসা ফুরাবে না জীবনে’, ‘আমি জীবন্ত একটা লাশ’, ‘অনেক সাধনার পরে’ প্রভৃতি। সংগীতে অবদানের জন্য আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন। মহান মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের জন্য সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। এই ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন অভিযুক্ত জামায়াত নেতা গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল সাক্ষ্য দেন এবং গোলাম আযম দণ্ডপ্রাপ্ত হন। এই সাক্ষ্য দেয়ার কারণে তার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়। প্রতিশোধ হিসেবে স্বাধীনতাবিরোধীরা ২০১৩ সালের ৯ মার্চ তার ছোট ভাই মিরাজকে হত্যা করে। এরপর প্রায় ছয় বছর তিনি অনেকটা গৃহবন্দি ছিলেন। ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা