Print Date & Time : 3 July 2022 Sunday 6:25 pm

স্মরণীয়-বরণীয়

কবি, গবেষক, পুঁথি ও লোকসাহিত্য সংগ্রাহক সাহিত্যরত্ন মুনশি আশরাফ হোসেন। তিনি ১৮৯২ সালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছেলেবেলায় তিনি স্থানীয় মক্তবে লেখাপড়া শুরু করেন। কওমি মাদরাসায় পাঁচ বছর শিক্ষালাভের পর  তিনি ‘মুনশি’ উপাধি লাভ করেন। পরে কালীপ্রসাদ মধ্য ইংরেজি স্কুলে কয়েক বছর পড়াশোনা করেন। ১৯১৮ সালে নিজের গ্রামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে তিনি  সেখানে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং ১৯২২ সালে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন। একই বছর শিলচর নর্মাল স্কুল থেকে গুরু ট্রেনিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। মুনশি আশরাফ হোসেন ১৯১৮ সাল থেকে সাহিত্য জীবন শুরু করেন। প্রথম দিকে তিনি বিভিন্ন সাময়িকী ও পত্রপত্রিকায় স্থানীয় সমস্যা নিয়ে লেখালেখি করেন। এরপর লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তার সংগৃহীত ‘মণিপুরের লড়াই’ দীনেশচন্দ্র সেন তার পূর্ববঙ্গ গীতিকা গ্রন্থে’ অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি ১২টি মৌলিক গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। এর মধ্যে  আশরাফ দেওয়ানা, ভূমিকম্পের কবিতা, আদম খাঁ দেওয়ানের গীত ইত্যাদি। লোকসাহিত্য বিষয়ে তিনি ৩০টি গ্রন্থ সম্পাদনা করেন। তার মধ্যে দিলকুশ কন্যার বারমাসী, শান্তিকন্যার বারমাসী, লিলাইর বারমাসী, মধুমালার গীত প্রভৃতি। এ ছাড়া তিনি ১৭টি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করেন। যেমন মক্তবি বাল্যশিক্ষা, সাহিত্য সুধা, নববিধান ধারাপাত ইত্যাদি। প্রাচীন মাসিক আল ইসলাহ পত্রিকায় তার রচিত সিলহটের ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মুনশি আশরাফ হোসেন ১৯৩৫ সালে মুর্শিদাবাদ বঙ্গসাহিত্য মণ্ডল কর্তৃক পুরাতত্ত্ববিদ উপাধি লাভ করেন। ১৯৫২ সালে নিখিল বঙ্গ সাহিত্য সংঘ তাকে সাহিত্যরতœ ও কাব্যবিনোদ উপাধি দেয়। ১৯৬৫ সালে তিনি তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক তমঘা-ই-আজম উপাধি লাভ করেন। আসাম সরকার তাকে সাহিত্য বৃত্তি (১৯৪৩) ও বাংলা একাডেমি আর্থিক সাহায্যও প্রদান করে। তিনি ১৯৬৫ সালের ২৪ জানুয়ারি নিজ গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা