প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্মরণীয়-বরণীয়

ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের বিখ্যাত অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবী। তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করেন। তিনি ২০১১ সালে বঙ্গভূষণ পুরস্কার ও ২০১৪ পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হন। সুপ্রিয়া দেবী ১৯৩৩ সালের ৮ জানুয়ারি মায়ানমারের মিয়িত্?কিনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম কৃষ্ণা এবং ডাকনাম বেনু। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাদের পরিবারসহ বার্মায় বসবাসরত অনেক ভারতীয় নিজ দেশে চলে আসেন। মাত্র সাত বছর বয়সে, তার বাবার পরিচালিত দুটি নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে সুপ্রিয়া দেবীর অভিনয়ে অভিষেক ঘটে। তিনি ছোটবেলা থেকে নৃত্যের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। অভিনয়ের প্রথম দিকে তিনি মূলত ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সুনাম লাভ করেন। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের নায়িকা হিসেবে তিনি বহু ছবিতে অভিনয় করেন। ‘মেঘে ঢাকা তারা’ তার মধ্যে অন্যতম। ধীরে ধীরে মূলধারার ছবিতেও তিনি তার ব্যাপ্তি ছড়াতে শুরু করেন। উত্তম কুমারের সঙ্গেও অনেক সিনেমায় তিনি অভিনয় করেন। উত্তম-সুপ্রিয়া জুটি সেসময় ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৯৬৩ সালে তিনি মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৫২ সালে সুপ্রিয়া দেবীর প্রথম অভিনীত ছবি ‘বসুপরিবার’ মুক্তিলাভ করে। এ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে পরিচিত পান তিনি। এ চলচ্চিত্রেই তার নাম পরিবর্তন করে সুপ্রিয়া দেবী রাখা হয়। ১৯৬৯ সালে উত্তম কুমারের সঙ্গে ‘সোনার হরিণ’ সিনেমায় অভিনয় করে তিনি জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এরপর তাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত মেঘে ঢাকা তারা চলচ্চিত্রে ‘দাদা আমি বাঁচতে চাই’এই আকুতি সুপ্রিয়া দেবীর অভিনয় দক্ষতায় এক অনন্য মাত্রা যোগ করে। এ ছাড়া তিনি  সূর্য শিখা, মেঘে ঢাকা তারা, মন নিয়ে, দেবদাস, লাল পাথর, যদি জানতেম, সন্ধ্যা রাগ, সন্ন্যাসী রাজা, যদি জানতেম, বাঘবন্দী খেলা বাঘবন্দী খেলা, বনপলাশীর পদাবলী, চিরদিনের, চৌরঙ্গি, তিন অধ্যায়, কাল তুমি আলেয়া, শুধু একটি বছর, শুন বর নারী, দ্য নেমসেকসহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে সাফল্যের সঙ্গে অভিনয় করেন। তিনি বেশ কিছু হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতার শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত বাংলাদেশের মানুষের সাহাযার্থে তিনিও এগিয়ে আসেন। ২০১৮ সালের ২৬ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা