প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্মরণীয়-বরণীয়

ভারতীয় রেনেসাঁর পথিকৃৎ রাজা রামমোহন রায়ের আজ ২৫০তম জš§বার্ষিকী। তিনি ১৮২৮ সালে দ্বারকানাথ ঠাকুরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ব্রাহ্মসমাজ স্থাপন করেন। পরবর্তীকালে এই ব্রাহ্মসমাজ সামাজিক ও ধর্মীয় আন্দোলন এবং বাংলার পুনর্জাগরণের পুরোধা হিসেবে কাজ করে। রাজা রামমোহন রায় ১৭৭২ সালের ২২ মে হুগলি জেলার রাধানগরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৫ বছর বয়সে তিনি গৃহত্যাগ করে নানা স্থান ভ্রমণ করেন। বারানসী থেকে প্রথাগত সংস্কৃত ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করে তিনি পাটনা থেকে আরবি ও ফারসি ভাষা শেখেন। পরে তিনি ইংরেজি, হিব্রু, গ্রিক, সিরীয় প্রভৃতি ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করেন। এছাড়া ইসলামি ধর্মতত্ত্ব ও আইনশাস্ত্রেও যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করেন। ১৭৯৬ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকরিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে রামমোহন রায়ের কর্মজীবন শুরু হয়। তিনি চাকরিজীবনে বিভিন্ন দায়িত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হন। রামমোহন রায় বাঙালিকে জাতি হিসেবে আত্মপরিচয়সমৃদ্ধ করতে চেষ্টা করেছেন। তিনি একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করতেন। সে বিশ্বাস থেকে তিনি ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মূর্তিপূজা ও ধর্মীয় আচার মানতেন না এবং তার প্রকাশ্য প্রতিবাদ করতেন। রাজা রামমোহন রায় ১৮২৬ সালে হিন্দু-মুসলমান উভয়পক্ষের হয়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে জুরি অ্যাক্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। সে সময় বিচারব্যবস্থায় এই দুই সম্প্রদায়ের কাউকেই রাখা হতো না। ব্রিটিশদের প্রবর্তিত ভূমিব্যবস্থায় কৃষকের দুর্দশার কথা তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উপস্থাপন করেন। বাবার সম্পদে কন্যার অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা ও বহুবিবাহ প্রথা বন্ধে তিনি সরব ছিলেন। তিনি রাজনীতি, জনপ্রশাসন, ধর্ম ও শিক্ষা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রেখেছেন। তিনি সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত হয়েছেন সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টার জন্য। তার সংস্কারমূলক ও উদারবাদী ধারণাগুলোর প্রচারের জন্য ১৮২১ সালে রামমোহন সম্বাদ কৌমুদী নামে বাংলা সংবাদপত্র এবং ১৮২২ সালে মিরাত-উল-আখবার নামে ফারসি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। রামমোহনকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। তিনি ৩০টি বাংলা গ্রন্থ রচনা করেন। ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে তিনি অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল স্থাপন করেন। ১৮৩০ সালে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর কর্তৃক রামমোহন রায় ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত হন। ১৮৩২ সালে তিনি ফ্রান্স সফর করেন। ১৮৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতান