প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্মরণীয়-বরণীয়

বীর মুক্তিযোদ্ধা অভিনেতা ও নাট্য সংগঠক হুমায়ুন ফরীদির আজ ৭০তম জন্মদিন। তিনি মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য খ্যাতি অর্জন করেন। বাংলা চলচ্চিত্রের একজন কিংবদন্তি অভিনেতা হিসেবে তাকে অভিহিত করা হয়। হুমায়ুন ফরীদি ১৯৫২ সালের ২৯ মে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি পিতার বদলির চাকরির সুবাদে মাদারীপুরের ইউনাইটেড ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তিনি সেখানে নাট্য জগতে প্রবেশ করেন ও শিল্পী নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হন। এর আগে ১৯৬৪ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে কিশোরগঞ্জে মহল্লার নাটক ‘এক কন্যার জনক’-এ অভিনয় করেন ফরীদি। ১৯৬৮ সালে তিনি  চাঁদপুর সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন। উচ্চ মাধ্যমিক শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব-রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। যদিও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হলে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ঢাকা থিয়েটারে যোগ দেন। সেই বছর নাট্যোৎসবে ফরীদির  রচনায় এবং নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হয় ‘আত্মস্থ ও হিরণ¥য়ীদের বৃত্তান্ত নামে একটি নাটক। এরপর ঢাকা থিয়েটারে ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’, ‘ফণীমনসা’, ‘শকুন্তলা’, ‘কীত্তনখোলা’, ‘কেরামত মঙ্গল’ নাটকগুলোতে অভিনয় করে ভ‚য়সী প্রশংসিত হন হুমায়ুন ফরিদী। ১৯৯০ সালে স্ব-নির্দেশিত ‘ভ‚ত’ দিয়ে শেষ হয় তার ঢাকা থিয়েটারের জীবন। টেলিভিশন নাটকে হুমায়ুন ফরীদির অভিষেক ঘটে নিখোঁজ সংবাদ নাটকের মধ্য দিয়ে। তবে ১৯৮৩ সালে সেলিম আল দীনের রচনায় ‘ভাঙনের শব্দ শুনি’ নাটকে সেরাজ তালুকদারের চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান ফরীদি। সংসপ্তক নাটকে কান কাটা রমজান চরিত্রটি ফরীদিকে বাংলা নাট্যামোদী দর্শকের কাছে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। নব্বইয়ের গোড়া থেকেই হুমায়ুন ফরীদির বড় পর্দার জীবন শুরু হয়। বাণিজ্যিক আর বিকল্প ধারা মিলিয়ে প্রায় ২৫০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে প্রথম ছবি তানভীর মোকাম্মেলের ‘হুলিয়া’। তিনি মোট ৩৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ‘মাতৃত্ব’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ২০০৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে অতিথি শিক্ষক হিসেবে অভিনয় বিষয়ে কিছুদিন পাঠদান করেন। ২০১২ সালের ১৩ ফেব্রæয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা