মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

বাংলাদেশের সূর্য সন্তান ল্যান্স নায়েক বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে শাহাদাতবরণ করেন তিনি। এদিন পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীকে প্রতিরোধ এবং দলীয় সঙ্গীদের জীবন ও অস্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হন নূর মোহাম্মদ। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে তাকে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। নূর মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের এই দিনে নড়াইল জেলার মহিষখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তিনি পিতৃমাতৃহীন অবস্থায় আর্থিক সংকটে পৈতৃক জমিজমা বিক্রি করে ফেলেন। পরে তিনি আনসার বাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৫৯ সালের ১৪ মার্চ তিনি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস বা ইপিআরএ যোগ দেন। প্রশিক্ষণ শেষে নূর মোহাম্মদ দিনাজপুর সেক্টরে পদায়ন হন। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে তিনি দিনাজপুরে আহত হন। এ যুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ পাকিস্তান সরকার তাকে ‘তমগা-এ-জং’ ও ‘সিতারা-এ-হরব’ পদকে ভূষিত করে। ১৯৭০ সালের আগস্ট মাসে তিনি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের ল্যান্স নায়েক হিসেবে যশোর সেক্টরে বদলি হন। ১৯৭১ সালের ১৪ মার্চ ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসে নূর মোহাম্মদ মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি যশোর ৮নং সেক্টরের অধিনায়ক জেনারেল মঞ্জুরের নির্দেশে সীমান্তে নিয়োজিত হন। যুদ্ধ চলাকালে যশোরের শার্শা থানার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে পাক-হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। 

১৯৭১-এর ৫ সেপ্টেম্বর সুতিপুরে নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যূহর সামনে যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে নূর মোহাম্মদকে অধিনায়ক করে পাঁচজনের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্ট্যান্ডিং পেট্রোল পাঠানো হয়। সেদিন  দায়িত্ব পালনকালে পাকসেনারা মুক্তিবাহিনীর প্রতিরক্ষা ঘাঁটির তিন দিকে অবস্থান নিয়ে অতর্কিতে আক্রমণ চালায়। নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে টহল দলটি পাকসেনাদের আক্রমণ প্রতিহত করে। যুদ্ধের একপর্যায়ে শত্রুর মর্টারের গোলার আঘাতে তিনি আহত হন। আহত অবস্থায় যুদ্ধ করতে করতে তিনি শহীদ হন। সহযোদ্ধারা তার মৃতদেহ উদ্ধার করে সীমান্তবর্তী কাশীপুরে সমাহিত করেন।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..