প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্মরণীয়-বরণীয়

শহীদ জননী, কথাসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং একাত্তরের ঘাতক দালালবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী জাহানারা ইমামের আজ ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। জাহানারা ইমাম ১৯২৯ সালের ৩ মে অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। সে সময় মুসলিম পরিবারের মেয়েদের কাছে আধুনিক শিক্ষালাভ করা বেশ কঠিন ছিল। তিনি তার পিতা ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল আলীর তত্ত্বাবধানে রক্ষণশীলতার বাইরে এসে আধুনিক শিক্ষা লাভ করেন। বিবাহিত জীবনে লেখাপড়ায় তিনি পুরকৌশলী স্বামী শরীফ ইমামের দিক থেকেও উৎসাহ পেয়েছেন। জাহানারা ইমাম ১৯৪৫ সালে কলকাতার লেডি ব্রাবোর্ন কলেজ থেকে তিনি বিএ পাস করেন। বিএড পাস করার পর ১৯৬৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেন। ১৯৪৮ সালে ময়মনসিংহ শহরে বিদ্যাময়ী বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে এক বছর শিক্ষকতা করার পর তিনি ঢাকা চলে আসেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত তিনি ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৬ সালে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬৮-এর দিকে তিনি চাকরি ছেড়ে নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটেও শিক্ষক হিসেবে তিনি কিছুদিন কাজ করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে জাহানারা ইমাম তার প্রথম সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা রুমীকে হারান। একই বছর তিনি তার স্বামীকেও হারান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত নিয়ে তিনি রচনা করেন ‘একাত্তরের দিনগুলি’। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে ১৯৯২ সালে গঠিত একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটিরও আহ্বায়ক  ছিলেন। তার নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে ২৬ মার্চ ‘গণ-আদালত’  সংগঠিত হয়। আপসহীন সংগ্রামের জন্য তিনি ‘শহীদ জননী’ নামে অভিষিক্ত হন। জাহানারা ইমাম শিশু-কিশোরদের জন্য আত্মজীবনীমূলক সাহিত্য ও অনুবাদ রচনা করেছেন।  সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি স্বাধীনতা পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার ছাড়াও বহু পুরস্কার অর্জন করেন। তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ২১টি। তিনি ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা