প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্মরণীয়-বরণীয়

প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক আহমদ ছফা। তার লেখায় বাংলাদেশি জাতিসত্তার পরিচয় নির্ধারণ প্রাধান্য পেয়েছে। তার বিখ্যাত ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ (১৯৭৬) প্রবন্ধে তিনি বাঙালি মুসলমানের আত্মপরিচয় বিশ্লেষণ ও তাদের পশ্চাদগামিতার কারণ অনুসন্ধান করেছেন। আহমদ ছফা ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৭ সালে তিনি নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি তৎকালীন গোপন কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম নাজিরহাট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে একই বছর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। কিন্তু বাংলা বিভাগে ক্লাস করা অব্যাহত রাখেননি। পরে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চতর গবেষণাও শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু মননশীল রচনায় ব্যস্ত হয়ে সেদিকে আর নজর দিতে পারেননি। ১৯৮৬ সালে জার্মান ভাষার ওপর গ্যেটে ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা ডিগ্রিও লাভ করেন তিনি। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তিনি ‘প্রতিরোধ’ সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতা গিয়ে সেখান থেকে ‘দাবানল’ নামে আরেকটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ষাটের দশকে আহমদ ছফার সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়। তিনি ১৮টি প্রবন্ধ, ৮টি উপন্যাস, ৫টি কবিতার সংকলন, গল্প সংগ্রহ, কিশোর গল্প, শিশুদের জন্য ছড়া ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য-সাময়িকীপত্র সম্পাদনা করেন। বেশ কিছু গানও লিখেছেন তিনি।  তার উল্লেখযোগ্য রচনাÑসূর্য তুমি সাথী, উদ্ধার, একজন আলী কেনানের উত্থান, পতন, অলাতচক্র, ওঙ্কার, গাভীবৃত্তান্ত, অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী, পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ। তার রচনাবলি ৯ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। তার ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। আহমদ ছফার রচিত প্রতিটি উপন্যাসই ভাষিক সৌকর্য, বিষয়বস্তু ও রচনাশৈলীর অভিনবত্বে অনন্য। তিনি বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতির চলমান চিত্র ও সংবাদ বিষয়ে নানা নিবন্ধ লিখে সাহসী ও বিবেকী বুদ্ধিজীবীর ভূমিকা পালন করেন। আহমদ ছফা তার প্রথাবিরোধিতা, স্পষ্টবাদিতা, স্বকীয় দৃষ্টিভঙ্গির জন্য লেখক ও বুদ্ধিজীবী মহলে বিশেষ আলোচিত হন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে লেখক শিবির গড়ায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন তিনি। সমাজের বঞ্চিত শিশুদের জন্য শিল্পী সুলতান পাঠশালা প্রতিষ্ঠা তার অন্যতম কীর্তি। ২০০২ সালে তিনি  মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন। তিনি ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা