প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্মরণীয়-বরণীয়

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রয়াত সভাপতি মোহাম্মদ ফরহাদের আজ ৮৪তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ১৯৩৮ সালের ৫ জুলাই পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার জমাদারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালে দিনাজপুর জেলা স্কুল থেকে তিনি প্রবেশিকা, ১৯৫৭ সালে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৫৯ সালে বিএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৬১ সালে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পাস করেন। মেধাবী ছাত্র হিসেবে তিনি শিক্ষাজীবনে সব পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। মোহাম্মদ ফরহাদ ছাত্রজীবনে সাহিত্যপাঠ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বামপন্থি আন্দোলনের প্রতি আকৃষ্ট হন। তিনি সুরেন্দ্রনাথ কলেজ ছাত্র-সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বায়ান্নর বাংলা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। মোহাম্মদ ফরহাদ ১৯৫২ সালে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং ১৯৫৪ সালে প্রথম কারাবরণ করেন। পরে তেভাগার সংগ্রাম ও বাম আন্দোলনে দিনাজপুরে গোপন পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৫৩-৫৪ সালে বোদা-পঞ্চগড় ও এর আশেপাশের এলাকায় তিনিই প্রথম ছাত্রসংগঠন গড়ে তোলেন। ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে। ১৯৫৫ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (কোষাধ্যক্ষ) নির্বাচিত হন। মোহাম্মদ ফরহাদ কিছুদিন দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কাজ করেন। ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র থাকা অবস্থায় পাকিস্তানের আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে জঙ্গি ছাত্র আন্দোলনে ও শিক্ষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম কংগ্রেসে (সম্মেলন) কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর অন্যতম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির দ্বিতীয় কংগ্রেসে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালে তৎকালীন সরকার কমিউনিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। আটক হন মোহাম্মদ ফরহাদ। ১৯৮০ সালে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি আবারও গ্রেপ্তার হন। ১৯৮৭ সালে এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৬ তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থ ‘ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান’।

কাজী সালমা সুলতানা