মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

মুক্তিযুদ্ধের শহীদ সাংবাদিক সিরাজউদ্দীন হোসেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ইত্তেফাকে দুঃসাহসিক সম্পাদকীয় লিখতেন। একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা প্রদান এবং অবরুদ্ধ বাংলাদেশের সংবাদ সংগ্রহ করে নিয়মিতভাবে মুজিবনগর সরকারের কাছে পাঠাতেন। তিনি ১৯৭৬ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন। সাংবাদিক সিরাজউদ্দীন হোসেন ১৯২৯ সালের মার্চ মাসে মাগুরার শালিখা উপজেলার শরুশুনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৩ বছর ৬ মাস বয়সে তিনি পিতৃহারা হন। তিনি ১৯৪৩ সালে ঝিকরগাছা স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন ও ১৯৪৫ সালে যশোর মধুসূদন কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৪৭ সালে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি ১৯৪৭ সালে দৈনিক আজাদ পত্রিকায় প্রথমে কলকাতায়, পরে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত ঢাকায় কাজ করেন। ১৯৫৪ সালে ‘আজাদ’-এর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার এক বছর পর ১৯৫৪ সালে তিনি ইত্তেফাক পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৬৬ সালে ইত্তেফাক বন্ধ হয়ে গেলে তিনি সংবাদ প্রতিষ্ঠান পিপিআইয়ের ব্যুরো চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা  ঘোষণা করলে তিনি এই আন্দোলন ও পরে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। ১৯৭০ সালে তিনি ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক হন দেশ স্বাধীন হওয়ার ছয়দিন আগে। ১৯৭১ সালে ১০ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সৈন্যরা তাকে চামেলীবাগের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চৌধুরী মুঈনুদ্দীন এবং আশরাফুজ্জামান খানকে ১৯৭১ সালের ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সিরাজুদ্দিন হোসেনসহ ১৮ জন বুদ্ধিজীবীকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..