মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী, কবি ও বিশিষ্ট বাগ্মী সরোজিনী নাইডুর আজ ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৪৯ সালের এই দিনে (২ মার্চ) তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দ্য নাইটিংগেল অব ইন্ডিয়া নামে পরিচিত। সরোজিনী নাইডু ১৮৭৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ভারতের হায়দরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ছিল বাংলাদেশের বিক্রমপুরের ব্রাহ্মণগাঁও। ১২ বছর বয়সে সরোজিনী মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় গোটা মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৮৯১ থেকে ১৮৯৪ পর্যন্ত তিনি গতানুগতিক পড়াশোনা ছেড়ে তিনি নানা বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। ১৮৯৫ সালে প্রথমে লন্ডনের কিংস কলেজ ও পরে ক্যামব্রিজের গার্টন কলেজে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের মাধ্যমে সরোজিনী স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেন। ১৯১৫ সালে তিনি অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগ দেন। তিনি সমগ্র ভারতে সভা সমাবেশ করে নারী মুক্তি, শ্রমিক অধিকার রক্ষা ও জাতীয়তাবাদের সমর্থনে তার বার্তা প্রচার করেন। তিনি ১৯১৬ সালে বিহারে নীল চাষিদের অধিকারের দাবিতে প্রচারাভিযানে অংশ নেন। ১৯১৭ সালে নারীর ভোটাধিকারের দাবিতে উইমেন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হলে নাইডু এই সংগঠনের সদস্য হন। ১৯২৫ সালে তিনি কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হন। স্বাধীন ভারতে তিনি উত্তর প্রদেশের রাজ্যপালও নির্বাচিত হন। গান্ধীজিসহ অন্যান্য নেতা গ্রেপ্তার হলে সরোজিনী ধারাসন সত্যাগ্রহে নেতৃত্ব দেন। ১৯২৬ সালে তিনি নারী শিক্ষা অধিকার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি জাতীয় কংগ্রেস ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এ কারণে ৫ মে গান্ধীজিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর কিছুদিন পর গ্রেপ্তার হন সরোজিনী। ১৯৩১ সালের ৩১ জানুয়ারি গান্ধীজির সঙ্গে তিনিও মুক্তি পান। সেই বছরেই আবারও গ্রেপ্তার হন। এবার স্বাস্থ্যহানির কারণে অল্পদিনের মধ্যেই ছাড়া পান সরোজিনী নাইডু। সরোজিনী তার বাগ্মিতার জন্য খ্যাতিমান ছিলেন। এছাড়া তিনি একজন খ্যাতিমান কবিও ছিলেন। তার আজীবন কর্মসাধনার স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার সরোজিনী নাইডু স্বর্ণপদক প্রবর্তন করে।

 কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..