প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্মরণীয়-বরণীয়

কবি ও লেখক শহীদ কাদরীর ৮০তম জন্মবার্ষিকী আজ। তিনি বাংলা কবিতায় নাগরিকতা ও আধুনিকতাবোধের সূচনা করেছিলেন। শহর এবং তার সভ্যতার বিকারকে তিনি ব্যবহার করেছেন তার কাব্যে। ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১১ সালে ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক লাভ করেন। শহীদ কাদরী ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট ভারতের কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন। ১০ বছর বয়সে ১৯৫২ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। এরপর প্রায় তিন দশক তিনি ঢাকা শহরে অবস্থান করেন এবং ১৯৭৮ সাল থেকে প্রবাসজীবন শুরু করেন। তিনি বার্লিন, লন্ডন, বোস্টন এবং নিউইয়র্কে বসবাস করেন। শহীদ কাদরী মাত্র ১১ বছর বয়সে ‘পরিক্রমা’ শিরোনামে তার প্রথম কবিতা রচনা করেন, যা ‘স্পন্দন’ কাগজে ছাপা হয়। এরপর তার ‘জলকন্যার জন্য’ শিরোনামে কবিতা প্রকাশিত হয়। এভাবে নিয়মিত-অনিয়মিতভাবে তার কবিতা লেখা চলতে থাকে।  ১৯৬৭ সালে ছাপা হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ উত্তরাধিকার। এরপর ১৯৭৪ সালে ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’, ‘কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই’ এবং ২০০৯ সালে কাব্যগ্রন্থ ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’ প্রকাশিত হয়। তার প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা চারটি এবং এসব গ্রন্থে কবিতার সংখ্যা ১২২টি। পরবর্তী সময়ে তিনি আরও চারটি কবিতা লিখেন; যার তিনটি ছাপা হয় কালি ও কলম সাহিত্য পত্রিকায় আর একটি প্রথম আলো ঈদ সংখ্যায় এবং সব মিলিয়ে তার কবিতা সংখ্যা ১২৬টি। কবি শহীদ কাদরী তার লেখালেখির জীবনে দীর্ঘ ছয় দশক বাংলা কবিতায় অসাধারণ কৃতিত্ব রাখেন। দেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা, বিশ্ববোধ এবং প্রকৃতি ও নগর জীবনের অভিব্যক্তি তার কবিতার ভাষা, ভঙ্গি ও বক্তব্যেকে বৈশিষ্ট্যায়িত করেছে। প্রবাসে থেকে তিনি যে কবিতাগুলো লিখেছেন, তার অধিকাংশই স্বদেশভূমির জন্য তার প্রবল আকুতি ও বিরহ কাতরতায় আবৃত। মৌলবাদেও আগ্রাসন তাকে প্রবলভাবে আহত করে। তিনি ঘৃণাভরে তাদের প্রত্যাখ্যান করেন কবিতার অজস  পঙ্ক্তিতে। তার কবিতায় বিশ্ব-নাগরিকতাবোধ ও গভীর স্বদেশপ্রেমের মিশেলে শব্দ-উপমার অনবদ্য গাঁথুনির অভিনবত্ব মুগ্ধ করে সবাইকে। ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কাজী সালমা সুলতানা