মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

প্রখ্যাত সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং সাহিত্যিক আবুল কালাম শামসুদ্দীনের আজ ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯৭৮ সালের এই দিনে (৪ মার্চ) ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে প্রথমবার যে শহীদ মিনার নির্মিত হয়, তিনি তার উদ্বোধন করেন। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও ১৯৭৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন। আবুল কালাম শামসুদ্দীন ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯১৯ সালে কলকাতার রিপন কলেজে ( সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন। ওই সময় (১৯২০-২১) খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে তিনি তাতে যোগ দেন এবং বিএ পরীক্ষা না দিয়ে কলকাতার গৌড়ীয় সুবর্ণ বিদ্যায়তন থেকে উপাধি পরীক্ষা (১৯২১) পাস করেন। ১৯২৩ সালে তিনি দৈনিক মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ, দি মুসলমান, দৈনিক সোলতান, মাসিক মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ১৯৩৬ সালে তিনি দৈনিক আজাদে যোগদান করে ১৯৪০-৬২ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। পরিণত বয়সে তিনি আইয়ুব খানের বিরোধী ছিলেন এবং ভাষা অন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৪৬ সালে তিনি মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের সদস্য ও ১৯৪৯ সালে পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা কমিটির সদস্য হন। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুযারি ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে তিনি আইন পরিষদের সদস্যপদ ও মুসলিম লীগ সংসদীয় পার্টি ত্যাগ করেন।  আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত ও অনূদিত একাধিক গ্রন্থ আছে। ‘পলাশী থেকে পাকিস্তান’ ও ‘অতীত দিনের স্মৃতি’ কচিপাতা, অনাবাদি জমি, ত্রিস্রোতা, খরতরঙ্গ, ইলিয়ড, পলাশী থেকে পাকিস্তান ও অতীত দিনের স্মৃতি তার উল্লেখযোগ্য রচনা। তিনি সরকার কর্তৃক সিতারা-ই-খিদমত ও সিতারা-ই-ইমতিয়াজ উপাধিতে ভূষিত হন। কিন্তু ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় সরকারি দমননীতির প্রতিবাদে তিনি উভয় খেতাব বর্জন করেন।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..