প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্মরণীয়-বরণীয়

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি ও গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিকের পঞ্চদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি আইয়ুব খানের সামরিক শাসন ও শিক্ষা কমিশন রিপোর্টবিরোধী আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানসহ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মণি সিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্টেরও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও  বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক  ছিলেন। সাইফউদ্দিন আহমেদ ১৯৩৯ সালের ২৪ জুন পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ধনিকুন্ডা গ্রামে। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে তিনি পরিবারের সঙ্গে ঢাকার গোপীবাগে বসবাস করা শুরু করেন। ১৯৫৪ সালে তিনি ঢাকার মুসলিম গভর্নমেন্ট হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৫৬ সালে ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। পরে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন। সাইফউদ্দিন আহমেদ বাল্যকাল থেকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অনুরাগী ছিলেন। তিনি ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬২ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন ও শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বিরোধী যে ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে তার সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ১৯৬৫ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬৬ সালে ছাত্র ইউনিয়ন এক অংশের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের ১১ দফা কর্মসূচির অন্যতম প্রণেতা, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি শ্রমিক আন্দোলনে যোগ দেন। এ বছর ডেমরার বাওয়ানী পাটকল শ্রমিক ইউনিয়ন তাকে সভাপতি নির্বাচিত করে। পরবর্তীকালে তিনি ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নামে একটি শ্রমিক সংগঠন গড়ে তোলেন এবং এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ন্যাপ-সিপিবি ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীদের নিয়ে গঠিত যৌথ গেরিলা বাহিনীর অন্যতম সংগঠক ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৭ সালে তিনি সিপিবির সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৪ সালে তিনি ‘গণফোরাম’ নামে গঠন করেন এবং ১৯৯৬ সাল থেকে আমৃত্যু এ দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা