মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

আজ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে তিনি সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হন। মুন্সী আবদুর রউফ ১৯৪৩ সালের ৮ মে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সালামতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতে আবদুর রউফ ইপিআরের ১১নং উইং চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে ৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং ইপিআরের ১৫০ জন সৈনিককে দায়িত্ব দেয়া হয় রাঙামাটি-মহালছড়ি নৌপথে নিরাপত্তাব্যূহ তৈরির। এই দলের এক নম্বর এলএমজি চালক ছিলেন মুন্সী আবদুর রউফ। ৮ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২নং কমান্ডো ব্যাটালিয়নের দুই কোম্পানি সৈনিক ৭টি স্পিডবোট ও ২টি লঞ্চ সহযোগে রাঙামাটি-মহালছড়ি নৌপথের আশপাশে অবস্থানরত মুক্তিবাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়। পাকিস্তানি সৈন্যরা মুক্তিবাহিনীর অবস্থান আঁচ করে লঞ্চ থেকে তাদের অবস্থানের ওপর মর্টারে গোলাবর্ষণ শুরু করে। তাদের এই অতর্কিত আক্রমণে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। এই সুযোগে কিছু পাকিস্তানি সৈন্য তীরে নেমে মুক্তিবাহিনীর অবস্থান ঘিরে ফেলে। ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান পেছনে হটার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু নিরাপদে অবস্থান ত্যাগের জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন কাভারিং ফায়ার। মুন্সী আবদুর রউফের এলএমজির কাভারিং ফায়ারে ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান তার সৈন্যদের নিয়ে পেছনে হটতে থাকেন। তার অব্যর্থ গুলিতে স্পিডবোটগুলো ডুবে যায় এবং সেগুলোতে অবস্থানরত পাকিস্তানি সৈন্যরা হতাহত হয়। পাকিস্তানি সৈন্যরা এলএমজির রেঞ্জের বাইরে গিয়ে লঞ্চ থেকে মর্টারে গোলা বর্ষণ করতে থাকে। আবদুর রউফ তখনও গুলি চালানো অব্যাহত রাখেন। অকস্মাৎ শত্রুর একটি মর্টারের গোলা তার বাঙ্কারে এসে পড়ে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর আগে সহযোগী যোদ্ধারা সবাই নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছে যেতে পেরেছিলেন। সেদিন আব্দুর রউফের আত্মত্যাগে তার কোম্পানির প্রায় ১৫০ জন মুক্তিযোদ্ধার জীবন রক্ষা পায়। মুক্তিযুদ্ধে তার বীরত্ব ও আত্মদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে। বাংলাদেশ রাইফেলস ১৯৭৩ সালে সিপাহি মুন্সী আবদুর রউফকে অনরারি ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি দান করেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..