পত্রিকা

স্মরণীয়-বরণীয়

স্বনামধন্য পর্যটক, সুপণ্ডিত, মার্কসীয় শাস্ত্রে দীক্ষিত রাহুল সাংকৃত্যায়নের আজ ১২৮তম জন্মবার্ষিকী। তার আসল নাম কেদারনাথ পাণ্ডে। তিনি ১৮৯৩ সালের এই দিনে উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলার পানহা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ‘ভলগা থেকে গঙ্গা’ তার রচিত অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ। কাশীর পণ্ডিতমণ্ডলী তাকে দি ‘মহাপণ্ডিত’ উপাধি দেন। রাহুল সাংকৃত্যায়নে বাল্যকালে মাতামহের কাছে ও পরে গ্রাম্য একটি পাঠশালায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উর্দু ও সংস্কৃতের ওপর শিক্ষা লাভ করেন। তাকে হিন্দি ভ্রমণ সাহিত্যের জনক বলা হয়। ৯ বছর বয়স থেকে শুরু করে জীবনের পুরোটাই (৪৫ বছর) কেটেছে তার ভ্রমণ করে। ভারতের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও শ্রীলংকা, জাপান, কোরিয়া, চায়না, রাশিয়া, তেহরান, বালুচিস্তান প্রভৃতি দেশ ভ্রমণ করেছেন তিনি। তিব্বতে গিয়ে তিনি গভীরভাবে বৌদ্ধশাস্ত্র অধ্যয়ন করে বৌদ্ধ ভিক্ষু হন এবং নিজ নাম পরিবর্তন করে রাহুল সাংকৃত্যায়ন নাম ধারণ করেন। বৌদ্ধ দর্শনে বুৎপত্তি লাভ করার পর তিনি মার্কসবাদের দর্শন অধ্যয়ন করেন এবং মার্কসবাদকেই তার জীবনদর্শন রূপে গ্রহণ করেন। ১৯১১ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় রাহুল সাংকৃত্যায়নের তিন বছর কারাদণ্ড হয়। এ সময় কারাগারে বসে তিনি পবিত্র কোরআন শরিফ সংস্কৃতি ভাষায় অনুবাদ করেন। তার অসাধারণ পাণ্ডিত্যের জন্য রাশিয়া থাকাকালে লেনিনগ্রাদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তিনি সেখানে শিক্ষকতা করেন। পরে শ্রীলংকায় বিদ্যালঙ্কার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবেও যোগ দেন। তিনি ৩৬টি ভাষা শিক্ষালাভ করেন ও ফটোগ্রাফিও শেখেন। রাহুল সাংকৃত্যায়ন ২০ বছর বয়স থেকে লেখালেখি শুরু করেন। বাংলা ভাষায় এ পর্যন্ত তার অন্তত ২০টি গ্রন্থের অনুবাদ হয়েছে। ‘ভলগা থেকে গঙ্গা’ ছাড়া তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো, ‘মেরি জীবনযাত্রা’, ‘মধ্য এশিয়ার ইতিহাস’, ‘দর্শন দিকদর্শন’, ‘কিন্নর দেশে আমি’, ‘যাত্রাপথে’, ‘নতুন মানব সমাজ’, ‘ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের উত্থান পতন’, ‘তিব্বতের সওয়া বছর’, ‘ইসলাম ধর্মের রূপরেখা’, ‘মাও সে তুং’, ‘বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদ’ প্রভৃতি। ১৯৬৩ সালের ১৪ এপ্রিল তিনি  মৃত্যুবরণ করেন।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..