মত-বিশ্লেষণ

স্মরণীয়-বরণীয়

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহিরের আজ ৭০তম জন্মবার্ষিকী। স্বাধীনতা যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য  তিনি বীরপ্রতীক খেতাব লাভ করেন। কাজী সাজ্জাদ আলী জহির ১৯৫১ সালের এই দিনে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার চৌসই গ্রামে জš§গ্রহণ করেন। ১৯৬৯ সালের শেষে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাকুল সামরিক একাডেমিতে সিনিয়র ক্যাডেট হিসেবে তিনি প্রশিক্ষণরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আগস্ট মাসের শেষদিনে তিনি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে ভারতে এসে যুদ্ধে যোগ দেন। সিলেট অঞ্চলে ৪ নম্বর সেক্টরের অধীনে দ্বিতীয় গোলন্দাজ বাহিনীকে সংগঠিত করেন তিনি। আগস্ট মাসে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৭৮ ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্ট শিয়ালকোটে  তিনি কমিশন লাভ করেন। কয়েক দিন পর সেখান থেকে পালিয়ে ভারতে যান। মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন সেপ্টেম্বর মাসে। এ সময় ভারত সরকার মুক্তিবাহিনীকে কয়েকটি ১০৫ এমএম গান দেয়। তা দিয়ে মুক্তিবাহিনীর জন্য একটি ফিল্ড আর্টিলারি ব্যাটারি গঠন করা হয়। নাম দেয়া হয় রওশন আরা ব্যাটারি। এই ব্যাটারিতে অন্তর্ভুক্ত হন তিনি। এ গ্রুপের সহঅধিনায়ক ছিলেন তিনি। রওশন আরা ব্যাটারিতে ছিল ছয়টি গান। অক্টোবর মাস থেকে এই ব্যাটারি ১০৫ এমএম কামান দিয়ে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে মুক্তিবাহিনীর জেড ফোর্সকে বিভিন্ন যুদ্ধে আর্টিলারি ফায়ার সাপোর্ট দিয়ে সহায়তা করে। তার পরিচালনায় রওশন আরা ব্যাটারি কয়েকবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা অবস্থানে গোলাবর্ষণ করে। সঠিক নিশানায় গোলাবর্ষণ করার ক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব ও দক্ষতা প্রদর্শন করেন। এর ফলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে তিনি অবসরে যান। মহান মুক্তিযুদ্ধে আর্টিলারি ব্যাটারি পরিচালনায় দক্ষতার জন্য তিনি ‘বীরপ্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন। ২০২১ সালে তিনি ভারত সরকারের অন্যতম সম্মানীয় পদক ‘পদ্মশ্রী’তে ভূষিত হন।

কাজী সালমা সুলতানা

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..