প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্মরণ: মান্না দে

বলা হয়ে থাকে, তার গানে মানুষের সব রকম আবেগ-অনুভূতির কথা আছে। রবীন্দ্রসংগীতের মতো অতটা না হলেও প্রায় সব পরিস্থিতির সঙ্গেই মানানসই কোনো না কোনো গান খুঁজে পাওয়া যায় তার গাওয়া বিশাল গানের ভাণ্ডারে। বিশেষ করে পাওয়ার আনন্দ, না পাওয়ার বেদনা আর প্রেমের আকুতি ও বিরহ-যন্ত্রণার চিরকালীন রূপ তার গানের মতো এমন করে আর কারও গানে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। শুধু পাওয়া না পাওয়ার আর প্রেম-বিরহের কথাইবা বলছি কেন, ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা’র মতো এমন নস্টালজিক গান কি আর একটাও আছে? আবার ‘পৌষের কাছাকাছি রোদমাখা সেই দিন’-এর মতো! এটা একই সঙ্গে প্রেম, বিরহ ও নস্টালজিয়া প্রকাশ করে। অর্থাৎ যে যেভাবে নেয়, গানটি তার কাছে সেভাবেই ধরা দেয়। এমন আরও অনেক গানের কথাই বলা যায়, যেগুলো হাজারবার শোনার পরও পুরোনো হয় না, চিরনতুন এই গানগুলো পুরোনো দিনের কোনো না কোনো স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় শ্রোতাদের। আর এভাবে অগণিত শ্রোতার কাছে তার গান প্রাসঙ্গিক হয়ে আছে বছরের পর বছর। শুধু আছেই নয়, ছিল এবং থাকবেও। হ্যাঁ, মান্নাদের কথাই বলা হচ্ছে।

মান্না দে ভারতের কলকাতায় ১৯১৯ সালের ১ মে জন্ম গ্রহণ করেন। মান্না দে প্রথম গানের তালিম নেন চাচা সংগীতাচার্য কৃষ্ণ চন্দ্র দে এবং ওস্তাদ দবির খানের কাছ থেকে। এ সময় মান্না দে আন্তঃকলেজ সংগীত প্রতিযোগিতায় পরপর তিন বছর তিনটি ভিন্ন বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ১৯২৪ সালে মান্না দে কৃষ্ণ চন্দ্র দের সঙ্গে মুম্বাই যান। সেখানে তিনি প্রথমে কৃষ্ণ চন্দ্র দে এবং পরে শচীন দেব বর্মণের সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এরপর আরও কয়েকজনের সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ করার পর স্বাধীনভাবে কাজ করতে শুরু করেন। স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করার পর মান্না দে যখন সংগীত পরিচালক হিসেবে বেশ কয়েকটি হিন্দি ছবিতে কাজ করেছেন, তখন তিনি ওস্তাদ আবদুর রহমান খানের কাছ থেকে ধ্রুপদি হিন্দুস্তানি সংগীতের তালিম নিতে শুরু করেন। মান্না দে তার প্লে-ব্যাক সিঙ্গার ক্যারিয়ার শুরু করেন ১৯৪৩ সালে ‘তামান্না’ সিনেমার মাধ্যমে। কৃষ্ণ চন্দ্র দের এ গানটিতে মান্না দের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছিলেন সুরাইয়া। ১৯৫০ সালে মান্না দে ‘মশাল’ সিনেমার জন্য শচীন দেব বর্মণের সৃষ্টি একটি মেলোডি ‘উপর গগন বিশাল’-এ কণ্ঠ দেন। ১৯৫২ সালে একই নাম ও কাহিনির একটি বাংলা ও একটি মারাঠি সিনেমার গানে কণ্ঠ দেন মান্না দে। ছবিটির নাম ‘অমর ভ‚পালি’। এটি তাকে শীর্ষস্থানীয় প্লে-ব্যাক সিঙ্গারদের সমপর্যায়ে পৌঁছে দেয়। মান্না দে হিন্দি ও বাংলায় সমান পারদর্শী ও জনপ্রিয়।

মান্না দে ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর ভারতের বেঙ্গালুরুতে মৃত্যুবরণ করেন।