প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

স্যামসাং অর্থ কেলেঙ্কারি: দক্ষিণ কোরিয়ার পেনশন তহবিলের প্রধান গ্রেফতার

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দক্ষিণ কোরিয়ার ইলেকট্রনিকস প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ও প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন-হাইর সঙ্গে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে দেশটির ন্যাশনাল পেনশন সার্ভিস (এনপিএস) চেয়ারম্যান মুন হিয়াং পিওবেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষ প্রসিকিউটররা বুধবার তাকে গ্রেফতার করেন। এর আগে সোমবার এনপিএস চেয়ারম্যানের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন প্রসিকিউটররা। এনপিএস বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ পেনশন স্কিম। খবর বিবিসি।

ব্যক্তিগত লাভের লক্ষ্যে পুরোনো বন্ধু চাই সুন সিলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব-প্রতিপত্তির অপব্যবহারের অভিযোগে প্রেসিডেন্ট পার্কের অভিশংসন প্রক্রিয়া চলাকালে মুনকে গ্রেফতার করা হলো।

গত বছর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণ শাখা স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি এবং একই ধরনের প্রতিষ্ঠান চেইল ইন্ডাস্ট্রি একীভূত হয়। শেয়ারহোল্ডারদের বিরোধিতা সত্ত্বেও ওই চুক্তি বাস্তবায়ন হয়। স্যামসাং গ্রুপের মালিক লি কুন হি তার স্বার্থে প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ বন্ধু চাই সুন সিল ও তার মেয়ের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে ৩১ লাখ ডলার দিয়েছিল, যাতে প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাই এ চুক্তিতে সহযোগিতা করেন। আর ওই অর্থ জাতীয় পেনশন তহবিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। পার্ক জিউন হাই একীভূতকরণে বিরোধিতাকারী শেয়ারহোল্ডারদের চাপ দিয়েছিলেন চুক্তি বাস্তবায়ন করতে। এমন অভিযোগের তদন্তের জন্য স্যামসাং ও এনপিএসের অফিসে এর আগে একাধিকবার তল্লাশি চালিয়েছেন প্রসিকিউটররা। এনপিএস চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের তদন্তের জন্যই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন হাইকে অভিশংসনের পক্ষে সম্প্রতি রায় দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যরা। অভিশংসনের ভোটাভুটিতে তার পক্ষে ভোট পড়ে ৫৬টি। আর বিপক্ষে পড়ে ২৩৪টি। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুসারে প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের জন্য পার্লামেন্টের ৩০০ সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোনো প্রেসিডেন্ট মেয়াদ পূর্ণ করতে না পেরেই ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হলেন। প্রেসিডেন্ট পদে পার্ক জিউন হাইয়ের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। প্রেসিডেন্টের বান্ধবী চাই সুন সিল দক্ষিণ কোরিয়ার ৫৩টি কোম্পানি থেকে ৬৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার চাঁদা আদায় করেছেন। দেশটির ১৯টি কনগ্লোমারেট এসব কোম্পানির মালিক। সম্প্রতি দুর্নীতির এ ঘটনায় দেশটির প্রেসিডেন্টের বন্ধুকে অভিযুক্ত করা হয়।

আলোচিত এই দুর্নীতির ঘটনা ‘চোই-গেট কেলেঙ্কারি’ নামেও পরিচিত। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির আদলে এ নামকরণ করা হয়।

অভিশংসনের আগে দুর্নীতে জড়িত স্যামসাং, হুন্দাই মোটর, লোটেসহ দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় আটটি কোম্পানির (কনগ্লোমারেট) প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন দেশটির সংসদ সদস্যরা। জিজ্ঞাসাবাদে দক্ষিণ কোরিয়ার কনগ্লোমারেটগুলো প্রেসিডেন্ট পার্কের বান্ধবীকে চাঁদা দিতে বাধ্য হয়েছিল বলে জানান। দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় পার্লামেন্টারি শুনানি ছিল। যেসব কোম্পানির প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধনকুবের হলেন স্যামসাং ইলেকট্রনিকস  কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান জে ই লি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় বেশ কয়েকবার স্যামসাং সদর দফতর ও কোরিয়ার ন্যাশনাল পেনশন সার্ভিস (এনপিএস) কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। লি পরিবারের বাইরে স্যামসাংয়ে সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার হচ্ছে এনপিএস। অন্যগুলোর মধ্যে লোটে গ্রুপের চেয়ারম্যান শিন দং বিন এবং এসকে গ্রুপের কর্ণধার চে তাই ওনকেও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। বিশ্বের দশম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির অর্থনীতির জন্য সামগ্রিকভাবে এ বছর ভালো যায়নি। একের পর এক কোরীয় কনগ্লোমারেট নানা কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বহুল আলোচিত নোট৭ স্মার্টফোন বিস্ফোরণের কারণে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসকে বিপুল পরিমাণ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে হয়েছে। আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও স্যামসাংকে ইমেজ সংকটের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।