শেষ পাতা

স্যার আবেদের শিক্ষা ও উন্নয়ন চিন্তার কেন্দ্রে ছিল মানুষ

আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্যার ফজলে হাসান আবেদের শিক্ষা ও উন্নয়ন চিন্তার কেন্দ্রে ছিল সাধারণ মানুষ। সারা জীবনের বিচিত্র ও বহুগামী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ব্যাপকসংখ্যক দরিদ্র মানুষের জীবনে পরিবর্তন সাধনে ভূমিকা রেখেছেন। দরিদ্র দূরীকরণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবাধিকার প্রভৃতি ক্ষেত্রে তার প্রতিষ্ঠিত ব্র্যাকের অবদান অনস্বীকার্য। ব্র্যাক এবং এর বিভিন্ন উদ্যোগকে টেকসই করা এবং এর সুফলকে বিস্তৃত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে জোর দিয়েছেন।

গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘শিক্ষায় স্যার আবেদ: তার চিন্তা, আদর্শ ও কৃতী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা এসব মন্তব্য করেন। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের স্মরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের একজন প্রতিষ্ঠাতা-ট্রাস্টি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন স্যার আবেদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, বাজার অর্থনীতিতে সাধারণত যেসব চাহিদার জন্য খরচ করা যায় তার ভিত্তিতে জোগান তৈরি হয়। কিন্তু স্যার আবেদ ও ড. মুহম্মদ ইউনূস এ ধারণা পাল্টে দিয়েছেন। তারা প্রমাণ করেছেন যে, প্রান্তিক অঞ্চলের দরিদ্রতম কৃষকের তার সন্তানের জন্য শিক্ষার চাহিদা রয়েছে। সে তার খরচ বহন করতে পারে না বলে তার এ চাহিদা কোনোভাবেই শহুরে উচ্চবিত্তের দাবির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে আবেদ ভাইয়ের সঙ্গে এক দশক কাজ করার সুযোগ হয়েছে। যে-দেশ যে-বিষয়ের শিক্ষায় ভালো করেছে, সে দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ এনে পাঠ্যক্রম সাজিয়েছেন। তিনি চেয়েছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় হবে ব্র্যাকের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে দীর্ঘজীবী উত্তরাধিকার। প্রধান আলোচক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ড. সালেহউদ্দীন আহমেদ বলেন, তিনি ‘বটম টু টপ’ ধারণার ভিত্তিতে কাজ করতেন, সম্মিলিত প্রয়াস এবং কর্মীদের সমান গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে জোর দিতেন।

প্যানেল আলোচক ব্যাক গভর্নি বডির চেয়ারপারসন হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, তিনি ত্রাণ কর্মকাণ্ড থেকে নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর ক্ষমতায়ের জন্য শিশু মৃত্যু কমানো, তারপর শিশুদের জন্য শিক্ষার প্রসারে মনোযোগী হয়েছেন। সমাজের প্রয়োজনে ক্রমান্বয়ে তার উদ্যোগ বড় করেছেন। শিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি শুধু সনদ নয়, শিক্ষার বহুমুখী উদ্দেশ্যের-দক্ষতার বৃদ্ধি, ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করতেন। তার শিক্ষা ও সামগ্রিক উন্নয়ন চিন্তার কেন্দ্রে ছিল মানুষ।

ব্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ বলেন, ব্র্যাক একটি ‘শিখনমূলক’(লার্নিং) প্রতিষ্ঠান যারা প্রতিটি ছোট প্রকল্প থেকে শিখে, গবেষণা করে বড় প্রকল্পের দিকে এগিয়ে গিয়েছে। গ্রামের মানুষ শিশুদের শিক্ষার জন্য খরচ বহন করতে পারে না। তাই তিনি আন্তর্জাতিক অনুদানের ব্যবস্থা করেন। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় বাংলাদেশের যে সাফল্য তাতে ব্র্যাকের অবদান অনেক তাৎপর্যবহ।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী  বলেন, স্যার আবেদ শিক্ষাক্ষেত্রে গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন অ্যাডুকেশন ওয়াচ যারা প্রতি বছর বিভিন্ন কার্যকর গবেষণা প্রকাশ করেছে। শিক্ষাবিষয়ক বেসরকারি উদ্যোগসমূহের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন গণসাক্ষরতা অভিযান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন জ্ঞানতাপস আবদুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. আহরার আহমদ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..