আজকের পত্রিকা দিনের খবর প্রথম পাতা ফিচার সর্বশেষ সংবাদ

স্যুপভোজী দেশগুলোতে করোনায় মৃত্যুর হার অনেক কম

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাণঘাতি করেনা ভাইরাস নিয়ে তৈরি হয়েছে মহাসংকট। ভাইরাস সংক্রমনের পর তার ওষুধ আবিস্ককারেও চলছে নিরন্তন গবেষণা। এ ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা আবিস্কারের এক্রিয়াও চলমান। ভাইরাস প্রতিরোধে হাজারও রকম মতামত থাকলেও এখন পর্যন্ত রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের বেশি তারাই এ দুর্দিনে সবচেয়ে বেশি ভাগ্যবান।

এক্ষেত্রে মানুষের জীবনধারা, খ্যাদ্যাভ্যাস করোনা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখছে। এশিয়ার হট ড্রিংকস প্রিয় দেশগুলি করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে বীরত্ব দেখিয়েছে। টাটকা গরম স্যুপ খাওয়ার অভ্যাস ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে।

মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও দক্ষিন কোরিয়ার মৃত্যু হার প্রমান করেছে করোনা যুদ্ধে তারা ইউরোপ ও আমেরিকার চেয়ে শক্তিশালী। তাদের মৃত্যুও হার নামমাত্র।

বিভিন্ন দেশের আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শেয়ার বিজের অনুসন্ধানে জানা গেছে ইউরোপের দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর হার ইতালি ও যুক্তরাজ্যে। দেশ দুটিতে মৃত্যুর হার ১৩ শতাংশ। স্পেন ও ফ্রান্সে এ হার ১১ শতাংশ ।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এ হার ৪ শতাংশ। ইউরোপ ও আমেরিকায় বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও এসব দেশে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হচ্ছে না। তবে অপেক্ষাকৃত কম উন্নত চিকিৎসা সেবা দিয়েও এশিয়ার হট ড্রিংকস প্রিয় দেশগুলো করোনা প্রতিরোধে বড় ধরণের সফলতা দেখিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে জনপ্রিয় স্যুপ লাস্কা। ভিয়েতনামের জনপ্রিয় স্যুফ ফু, থাইল্যান্ডে খাও চই গাই এবং জাপানের রামেন স্যুপ। এসব জনপ্রিয় স্যুপ, সামুদ্রিক মৎস ও এসব এলাকার মানুষের নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই করোনার বিরুদ্ধে বড় ধরণের প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

জাপান, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিন কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের জনগন প্রতিদিন পর্যাপ্ত সবজি, সামুদ্রিক মাছ, গরম স্যুপই করোনা প্রতিরোধের বড় ম্যাজিক বলে মনে করছেন এসব দেশের মানুষ।

অপরদিকে ইউরোপ ও আমেরিকার মানুষ পর্যাপ্ত জাঙ্ক ফুড গ্রহন করে। পাশাপাশি তাদের দিন শুরু হয় ঠান্ডা পানীয় দিয়ে। দিনের শেষটাও বরফ জলেই সমাপ্ত হয়। এ ছাড়া উন্নত বিশ্বের অনিয়ন্ত্রিত জীবন ব্যবস্থাও রোগ প্রতিরোধে খুব বেশি সফল হতে পারছে না।

জনহপকিন্স ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড মেডিসিন সূত্রমতে, ভিয়েতনামে মৃত্যুর হার শুন্য। দেশটিতে ২৬৫ জন করোনা আক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি। সিঙ্গাপুরে এ হার শুন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ। দেশটিতে মোট করোনা আক্রান্ত রোগী দুই হাজার ৯১৮, মারা গেছেন নয় জন। মালয়েশিয়ায় মৃত্যুও হার এক দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এ দেশে চার হাজার ৮১৭ জন করোনা শনাক্ত হলেও মারা গেছেন ৭৭ জন। থাইল্যান্ডে মৃত্যুর হার এক দশমিক ৬৮ শতাংশ। দেশটিতে দুই হাজার ৬১৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলেও মারা গেছেন ৪৪ জন। জাপানে মৃত্যুও হার এক দশমিক ৮৭ শতাংশ।

দেশটিতে সাত হাজার ৬৪৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলেও মারা গেছেন ১৪৩ জন। কোরিয়াতে মৃত্যু হার ২ শতাংশ। দেশটিতে সবমিলে ১০ হাজার ৫৬০ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে মারা গেছেন ২২২ জন।

এশিয়ার দেশগুলির এই সাফল্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। থাইলান্ডের আমপাই বলেন, দুরপ্রাচ্যের মানুষগুলো নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করে। তাছাড়া প্রকৃতির সঙ্গে তাদের সম্পর্কটাও নিরিড়। মাছ, সবজি আর গরমপানি তাদের জীবনের সঙ্গে মিশে আছে। এ কারণে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি।

ভিয়েতনামের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী মিং চি বলেন, গরম পানি, গরম ভাত আর স্যুপ তাদের প্রিয় খাবার। অবশ্যই এর সঙ্গে রয়েছে নানা রকম মসলাজাতীয় খাবার। এসব খাবারই তাদেরকে করোনার বিরুদ্ধে বেঁচে থাকতে সহায়তা করছে।

জাইকার ভলান্টিয়ার তাকাও ফুজিকো বলেন, জাপানিজদের নিয়ন্ত্রিত জীবন ব্যবস্থা ও খাদ্যাভ্যাস তাদেও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে। আর এটাই করোনার বিরুদ্ধে শক্তিশালী ভুমিকা রাখছে।

####

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..