প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে তুলার তেল

জাকারিয়া পলাশ: কার্পাস তুলার বীজ থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ভোজ্যতেল। সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে এ তেল খুবই উপকারী বলে জানা গেছে। তুলাবীজ থেকে তেল উৎপাদনের জন্য বেশ কয়েকটি কারখানা রয়েছে কুষ্টিয়ায়। ওই তেল পরিশোধন করে খাবার উপযোগী করার জন্য রয়েছে আলাদা একটি কারখানা। বছরে প্রায় ৫০০ টন তেল উৎপাদন হয় সেখানে। দেশে তুলার মোট উৎপাদন কম হওয়ায় ব্যতিক্রমী এই ভোজ্যতেলকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সমৃদ্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ড ও জিনিং শিল্পে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বহুমুখী ব্যবহারের জন্য খ্যাতি রয়েছে তুলার। সাধারণত দেশের বিভিন্ন স্থানে চাষিদের উৎপাদিত তুলা জিনাররা কিনে নেন। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যস্থতায় চাষিদের সঙ্গে জিনারদের তুলার দাম নির্ধারিত হয় প্রতি বছর। পরে জিনাররা জিনিং মেশিনের সাহায্যে তুলা থেকে আঁশ ও বীজ আলাদা করেন। সুতা তৈরির জন্য আঁশ পাঠানো হয় স্পিনিং মিলগুলোতে। আর তুলার বীজ থেকে তেল ও খৈল উৎপাদন করা হয় মেশিনে পিষে।

কুষ্টিয়ার বাংলাদেশ জিনার্স অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে ১৬টি জিনিং ফ্যাক্টরি রয়েছে। তুলার বীজ থেকে তেল ও খৈল উৎপাদনের জন্য কুষ্টিয়ায় পাঁচটি মিল চালু আছে। এসব মিলে বছরে কয়েক হাজার টন তেল উৎপাদন সম্ভব। কিন্তু তুলাবীজ সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন কম হচ্ছে। বিভিন্ন মিলে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আগে সাবান কারখানায় নেওয়া হতো। সম্প্রতি ওই তেল পরিশোধন করে ভোজ্যতেল হিসেবে বিক্রি শুরু হয়।

এ প্রসঙ্গে জিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও তেল পরিশোধনাগারের উদ্যোক্তা গোলাম সাবের লাল শেয়ার বিজকে জানান, ‘বর্তমানে যে পরিমাণ বীজ সরবরাহ রয়েছে, তা থেকে প্রতি বছর পাঁচ শতাধিক টন তেল পাওয়া যাচ্ছে। সারা দেশের মধ্যে কুষ্টিয়ায় রয়েছে একমাত্র পরিশোধনাগার। এতে প্রতিদিন ১০ টন তেল পরিশোধন সম্ভব। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় সে পরিমাণ সম্ভব হয় না।’

তেলের বাজারজাতকরণ সম্পর্কে গোলাম সাবের বলেন, ‘পরিমাণে কম হওয়ার কারণে একে আলাদাভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে না। কুষ্টিয়ার স্থানীয় বাজারে সয়াবিন তেল হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।’

স্বাভাবিকভাবে সয়াবিন তেলের সঙ্গে তুলার তেলের পার্থক্য করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

ওই উদ্যোক্তা আরও জানান, ভারত ও পাকিস্তানসহ যেসব দেশে ব্যাপক হারে তুলা উৎপাদন হয়, সেখানে এই তেলের আলাদা চাহিদা রয়েছে। কোলেস্টেরল কম হওয়ায় এর স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব রয়েছে। ভারতের গুজরাটে এই তেল ‘কটন সীড অয়েল’ নামে সয়াবিন তেলের চেয়ে ১৫ রুপি বেশি দামে বিক্রি হয়।

তুলা উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, তুলার বীজে ১৮ ভাগ তেল রয়েছে। বাকি অংশ হয় খৈল। বাংলাদেশ গবাদিপশু গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) পরীক্ষায় তুলার খৈলের মান গবাদিপশুর জন্য উৎকৃষ্ট বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বিএসটিআইর অনুমোদন নিয়ে তুলার তেলকে আলাদাভাবে বাজারজাত করার ইচ্ছা রয়েছে আমাদের। উদ্যোক্তাদেরও আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু তুলার উৎপাদন যথেষ্ট না হওয়ায় ব্যাপক ভিত্তিতে এ নিয়ে কাজ করা যাচ্ছে না। বর্তমানে দেশে ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে তুলাচাষ হচ্ছে। আমরা বিভিন্নভাবে কৃষকদের তুলাচাষে আগ্রহী করার চেষ্টা করছি। ১ লাখ হেক্টর জমিতে তুলাচাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে মোট তুলা উৎপাদন হয়েছে ৪২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে এক লাখ ৫৩ হাজার বেল (১৮২ কেজিতে এক বেল) তুলার আঁশ এবং প্রায় ৭০ হাজার টন বীজ (আঁটি) উৎপন্ন হয়েছে। সমভূমি ও পাহাড়ি এলাকায় আলাদা রকমের তুলা হয়। এর মধ্যে সমতল ঢাকা, ময়মনসিংহ রংপুর, ঠাকুরগাঁও, বগুড়া, রাজশাহী কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ অঞ্চলের ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে ‘আপল্যান্ড কটন’ উৎপন্ন হয়। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ১৭ হাজার হেক্টর পাহাড়ি জমিতে ‘হিলকটন’ উৎপন্ন হয়।