কৃষি কৃষ্টি

সয়াবিন সঠিক চাষ পদ্ধতি

সম্পূর্ণ খাদ্যশস্য সয়াবিন। আমিষ ও ভোজ্যতেল উৎপাদনে এটি অতি প্রয়োজনীয়। আজকের আয়োজন এর নানা দিক নিয়ে

আমিষ ও ভোজ্য তেল উৎপাদনে সয়াবিন গুরুত্বপূর্ণ। অনেক দেশে এটি প্রধান ফসল হলেও বাংলাদেশে এখনও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশে সয়াবিন তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে বাজারজাত করা হচ্ছে। এতে দ্বিগুণ মূল্যে দিয়ে সয়াবিনের চাহিদা পূরণ করতে হয়। সুতরাং স্বল্প মূল্যে সরবরাহের লক্ষ্যে বাংলাদেশে সয়াবিন চাষ করা প্রয়োজন। তাই চাষিরা এর সঠিক চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে চাষ করে এ ফসল বৃদ্ধি করতে পারে।
যেসব জায়গায় চাষ হয়
বাংলাদেশে যদিও সব জেলায় এর চাষ শুরু হয়নি, কিন্তু সব জায়গায় এটি চাষ করা সম্ভব। কেননা সয়াবিন বছরের সব সময় চাষ করা যায়। তবে রবি মৌসুমে ফলন বেশি হয়। নিচু জমিতেও এর চাষ করা সম্ভব। বর্তমানে বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোয় সয়াবিনের আবাদ বেশি হচ্ছে। জেলাগুলো হচ্ছে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালী। এছাড়া ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলায় সয়াবিনের চাষ হয়ে আসছে।
সয়াবিন মূলত অল্প সময়ের ফসল। মাত্র তিন মাসের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। এ ফসল চাষের ফলে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। এর শিকড়ে একপ্রকার ব্যাকটেরিয়া (অণুজীব) নাইট্রোজেনকে গুটি আকারে ধরে রাখে। এর ফলে পরবর্তী ফসলে ইউরিয়া সারের অর্ধেক পরিমাণে প্রয়োজন হয়। এর রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম ও চাষাবাদ পদ্ধতিও সহজ। তাই চাষিরা বাজারক্ষেত্রে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে।
স্থান নির্বাচন
সেচ ও পানি বের হয়ে যাওয়ার সুবিধা আছে এমন সমতল জমি সয়াবিন চাষের জন্য ভালো। বাড়ির আশেপাশে অথবা গাছের ছায়া পড়ে এমন জায়গা সয়াবিন চাষের জন্য বেছে নিতে পারেন।
পরিবেশ ও মাটি
সয়াবিন দোআঁশ, বেলে দোআঁশ ও এটেল দোআঁশ মাটিতে চাষের জন্য উপযোগী। জমি অবশ্যই উঁচু হতে হবে ও খরিফ বা বর্ষা মৌসুমে পানি বের হওয়ার সুবিধা রাখতে হবে। রবি মৌসুমে মাঝারি নিচু জমিতেও চাষ করা যায়।
জমি তৈরি
জমিতে প্রথমে আড়াআড়ি চাষ করে নিয়ে মই দিয়ে মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে ফেলতে হবে। এরপর আগাছা বাছাই ও নিড়ানি দিয়ে পরিষ্কার করে কৃষি অধিদফতরের পরামর্শ অনুযায়ী ইউরিয়া, টিএসপি, এমপি, জিপসাম ও জৈব সার ছিটিয়ে চাষের জমিতে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। সার মেশানো হয়ে গেলে বীজ বপন করতে হবে।
বপনের সময় ও পদ্ধতি
বাংলাদেশে শীত (রবি মৌসুম) ও বর্ষা (খরিফ মৌসুম) এ দুই মৌসুমেই সয়াবিন বপন করা যায়। পৌষ মাসে অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির ভেতরে বপন করা ভালো। বর্ষা মৌসুমে শ্রাবণ থেকে ভাদ্র মাস, অর্থাৎ জুলাই থেকে আগস্টের ভেতরেও বপন করা যায়। সয়াবিনের বীজ সারি অনুযায়ী বপন করা ভালো। তবে কলাই বা মুগ ডালের মতো ছিটিয়েও বপন করা যায়। সারিতে বপন করলে সারি থেকে সারির দূরত্ব রবি মৌসুমে ১২ ইঞ্চি ও খরিফ মৌসুমে ১৬ ইঞ্চি রাখতে হবে। গাছ থেকে গাছের দূরত্ব দুই থেকে দুই দশমিক পাঁচ ইঞ্চি রাখতে হবে।

 

পুষ্টিগুণে ভরা সয়া নাগেট
সয়া বিশ্বের একমাত্র সম্পূর্ণ খাদ্যশস্য। সয়াবিন থেকে তেল উৎপন্ন হয়, এ কথা কমবেশি সবাই জানে। তবে সয়াবিন থেকে যে হরেক রকম খাবার প্রস্তুত করা যায়, তা অনেকেরই হয়তো অজানা।
এমনই একটি স্বাস্থ্যকর খাবার সয়া নাগেট বা সয়া বড়ি।
সয়ার আটা থেকে নাগেট বা বড়ি তৈরি করা হয়। এটি খেতে অনেকটা মাংসের মতো। মাংসে যে পরিমাণ পুষ্টি থাকে, সেই পরিমাণে পুষ্টি সয়া বড়িতেও পাওয়া যায়। তাই একে সবজিভোজীদের মাংসও বলা হয়। এটি বেশ মজাদার খাবার।
তিন দশমিক পাঁচ আউন্স সয়া নাগেটে ৫৪ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে, যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিনের গ্রহণ করা মাংস ও ডিম থেকে বেশি। এর কিছু খাদ্যগুণের কথা উল্লেখ করা হলো:
# সয়া নাগেট উচ্চমানের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
# সয়া বড়িতে রয়েছে আঁশ, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে
# এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা করোনারি হার্ট ডিজিসের বিরুদ্ধে লড়াই করে
# উচ্চরক্তচাপ দূর করতে সাহায্য করে
স ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে
# অস্টিওপোরোসিস (ক্যালসিয়ামের অভাবজনিত রোগ) হওয়ার ঝুঁকি কমায়
# ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার
# এতে আইসোফ্ল্যাবন জেনিসটাইন নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে
# এর অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন ‘বি’, ‘কে’, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও ফোলেট স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে
# সয়া বড়িতে রয়েছে মলিবডেনাম, কপার, ম্যাংগানিজ, ফরফরাস, আয়রন, ওমেগা, পটাসিয়াম ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস
# মেয়েদের পিরিয়ডের পেটব্যথা কমানোর পাশাপাশি এনার্জি বাড়াতে বেশ সহায়ক
# নাগেটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে মিনারেলস ও ভিটামিন, যা খেলে পেট অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভরা থাকে। ফলে কম খেলেও চলে
# সয়া নাগেট কোষগঠনে সাহায্য করে
# এর আয়রন শারীরিক দুর্বলতা ও অবসাদ দূর করে শরীরের ইমিউন সিস্টেম ভালো রাখে
# দাঁত ও হাড় ভালো রাখে
# এতে পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট রয়েছে
#  সয়া নাগেটে ক্ষতিকর অ্যালিমেন্টবিহীন ক্যালরি থাকে
# দেহগঠনে সাহায্য করে
# মাইগ্রেন, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, হরমোন গোলযোগ প্রভৃতি সমস্যা দূর করে।
সয়া নাগেট মাংসের মতো রান্না করা হয়। এছাড়া নিরামিষ, সবজি ও তরকারি যেভাবে রান্না করা হয়, সেভাবেও রান্না করা যায়। প্রথমে নাগেটকে লবণমিশ্রিত পানিতে পাঁচ থেকে সাত মিনিট ভালো করে ফুটিয়ে তারপর পানি ছেঁকে ফেলে দিয়ে ঠাণ্ডা পানিতে পাঁচ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হয়। পরে ভালো করে ধুয়ে ও চিপে নিয়ে স্বাভাবিক মাংস বা তরকারির নিয়মে রান্না করতে হবে।

হরেক জাতের…
সয়াবিনের কয়েকটি জাত রয়েছে। সব জাত বাংলাদেশে উৎপন্ন হয় না। সয়াবিনের নানা জাতের মধ্যে ব্রাগ, ডেভিস, সোহাগ, বাংলাদেশ সয়াবিন-৪ (জি-২) ও বারি সয়াবিন-৫ উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে ব্রাগ ও ডেভিস জাতের সয়াবিন বাংলাদেশে আবাদ করা হয় না।
সোহাগ (পিবি-১)
১৯৯১ সালে সয়াবিনের সোহাগ নামের জাতটি বাংলাদেশে চাষের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ জাতের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, গাছের উচ্চতা ২০ থেকে ২৪ ইঞ্চি হয়ে থাকে। বীজ মাঝারি ধরনের। শত বীজের ওজন ১১ থেকে ১২ গ্রাম। বীজের রং উজ্জ্বল হলদে। বীজে আমিষের পরিমাণ ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ। তেলের পরিমাণ ২১ থেকে ২২ শতাংশ। বীজের সতেজতা ও সংরক্ষণ ক্ষমতা ভালো। ফসল সংগ্রহ করে রাখা যায় তিন মাসের বেশি সময়।
বাংলাদেশ সয়াবিন-৪ (জি-২)
বাংলাদেশ সয়াবিন-৪ জাতটির অনুমোদন দেওয়া হয় ১৯৯৪ সালে। এ জাতের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, গাছের উচ্চতা ২৪ থেকে ২৬ ইঞ্চি। অর্থাৎ সোহাগ জাতের থেকে কিছুটা লম্বা হয়ে থাকে। এর বীজ আকারে ছোট। শত বীজের ওজন সাত থেকে ১০ গ্রাম। বীজের রং হলদে। ফসল সংগ্রহ করে চার মাস রাখা যায়। এ বীজ গজানোর ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি।
বারি সয়াবিন-৫
এ জাতটি ২০০২ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড ‘বারি সয়াবিন-৫’ নামে অনুমোদিত হয়। জাতটি বাংলাদেশে সব মৌসুমে চাষ করা যায়। এ জাতের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, গাছের উচ্চতা ১৬ থেকে ২৪ ইঞ্চি। বীজ আকারে সোহাগের চেয়ে সামান্য ছোট ও ‘বাংলাদেশ সয়াবিন-৪’-এর বীজের চেয়ে একটু বড়। শত বীজের ওজন ৯ থেকে ১৪ গ্রাম। বীজের রং কিছুটা সাদা ক্রিমের মতো। ফসল সংগ্রহ করে রাখা যাবে তিন মাস।

পোকামাকড় ও রোগবালাই
অন্যান্য ফসলের মতো সয়াবিনেও পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ দেখা দেয়। সয়াবিনের বাণিজ্যিক উৎপাদনে এগুলো দমন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পোকামাকড়
বিছা পোকা
সয়াবিনের ক্ষতি করে বিছা পোকা। এ পোকা দলবদ্ধভাবে গাছের পাতার সবুজ অংশ খেয়ে পাতা ঝাঁঝরা করে ফেলে। এর কীট হলুদ রঙের হয়। এর গায়ে কাঁটা থাকে এবং আক্রমণে গাছের বৃদ্ধি কমে যায়। ফলে ফলনও কমে যায়। দমনের জন্য আক্রান্ত পাতা সংগ্রহ করে পিষে পোকা মেরে ফেলতে হবে। কৃষি অধিদফতরের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে।
ফল ছিদ্রকারী পোকা
এ পোকার শুককীট বিছা পোকার মতোই প্রথমে পাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। এরপর কুঁড়ি, ফুল ও শুঁটি আক্রমণ করে। শুককীটগুলো শুঁটি ছিদ্র করে শরীরের অর্ধেক অংশ শুঁটির ভেতরে ঢুকে বীজ খায়। এটি দমনের জন্য শুককীট দেখা দিলে সেগুলো পিষে মারতে হবে অথবা কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। এছাড়া প্রতি গাছে যদি দুই বা তার বেশি শুককীট দেখা দেয়, তাহলে কৃষি অধিদফতরের পরামর্শ নিতে হবে।
পাতা মোড়ানো পোকা
সয়াবিন গাছে কিছু পাতা মোড়ানো দেখা যায়। এগুলোর ভেতর কীট থাকে এবং এরা পাতার রস খায়। গাছে মোড়ানো পাতা দেখলে তা হাত দিয়ে ছিঁড়ে ফেলতে হবে।
মাজরা পোকা
মাজরা পোকা তিন থেকে চার সপ্তাহ বয়সি গাছের কাণ্ডের ভেতরের অংশ খেয়ে ফেলে। এতে গাছ শুকিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে গাছ মারা যায়। দমনের ক্ষেত্রে পানির সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে গাছে স্প্রে করতে হবে।
গার্ডেন বিটল
এ পোকা গাছের কাণ্ডের মাঝামাঝি দুটি মুখোমুখি রিংয়ের মতো তৈরি করে। এরপর কাণ্ডের ভেতর ঢুকে ভেতরের অংশটুকু খেয়ে ফেলে। বাতাস বা অন্য কিছুর স্পর্শে রিংয়ের ওপরের অংশ ভেঙে পড়ে। এতে গাছ মরে যায়। এক্ষেত্রে কীটনাশক রিংয়ে স্প্রে করতে হবে।
রোগবালাই
কাণ্ড ও গোড়া পচা
এটি এক ধরনের ছত্রাকজাতীয় রোগ। এ রোগের আক্রমণে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যায়। আক্রান্ত গাছের কাণ্ড ও মূলে কালো কালো দাগ দেখা যায়। আক্রান্ত চারা বা গাছ ধীরে ধীরে শুকিয়ে মারা যায়।
এ রোগ দমনের জন্য আক্রান্ত গাছের গোড়ায় ছত্রাকনাশক ওষুধ পানিতে মিশিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে। গাছ রোপণের আগে জমি গভীরভাবে চাষ করতে হবে।
মোজাইক
কৃষি যন্ত্রপাতি ও কৃষকের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার ঘটে। পাতার উপরিভাগে সোনালি বা হলুদ রঙের ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়। আক্রান্ত গাছ সাধারণত খাটো হয়। গাছে কুঁড়ি আসে না। ফল ধরার সম্ভাবনা থাকে না। আক্রান্ত গাছ না রাখাই ভালো। তাই এটি তুলে মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে। নিম বীজের দ্রবণ বা সাবান গোলানো পানি স্প্রে করে এ রোগ অনেকাংশে কমানো যায়।

পরিচর্যা ও ফসল সংগ্রহ
ভালো ফলনের জন্য চাষিকে অবশ্যই পরিশ্রমী ও আন্তরিক হতে হবে। চাষের আগে কৃষি অফিসের পরিচর্যা ও ফসল সংগ্রহের বিষয়ে পরামর্শ নিতে হবে।
পরিচর্যা
বীজ বপনের এক মাস পর আগাছা দমন করে প্রথমে সেচ দিতে হবে। অর্থাৎ, ফুল ধরার সময় প্রথম সেচ দেওয়া আবশ্যক। গাছ খুব ঘন হলে পাতলা করে নিতে হবে। প্রতি বর্গমিটারে রবি মৌসুমের ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৫০টি ও খরিপ মৌসুমে ৩০ থেকে ৪০টি গাছ রাখা উত্তম। এর এক মাস পর অর্থাৎ শুঁটি গঠনের সময় দ্বিতীয় সেচ দিতে হবে। সময়মতো সেচের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সার ও পোকামাকড় দমন করতে হবে।
ফসল সংগ্রহ
সয়াবিনের গাছ যখন পরিপূর্ণ হয়ে গাছের পাতা ঝরে যাবে, তখন গাছ কেটে ফসল সংগ্রহ করতে হবে। অর্থাৎ তিন থেকে চার মাসের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যাবে। সংগ্রহের পর তিন থেকে চার দিন ভালোভাবে রোদে শুকানোর পর লাঠি দিয়ে হালকাভাবে পেটালে সয়াবিনের গাছ থেকে দানা আলগা হয়ে পড়বে। সয়াবিন কড়া রোদে না শুকানোই ভালো। মাড়াই হয়ে গেলে আবারও রোদে শুকিয়ে গ্রেডিং করে গুদামজাত করতে হবে। তবে গুদামজাতের আগে সয়াবিনের দানা থেকে মাটি, খড়, ময়লা প্রভৃতি বেছে পরিষ্কার করে নিতে হবে। গুদামজাত করার পর লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে বাতাস না ঢোকে। তা না হলে পণ্যের উজ্জ্বল রঙ ও আকার নষ্ট হয়ে যাবে। তাছাড়া পোকামাকড় থেকে রক্ষার জন্য পাত্রের নিচে ও ওপরে নিমপাতা গুঁড়ো করে দিতে হবে। বীজ সংরক্ষণের জন্য ড্রাম, টিন, পলিথিন প্রভৃতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

হ কৃষি-কৃষ্টি ডেস্ক

সর্বশেষ..