হংকংয়ের মানবাধিকার সুরক্ষায় মার্কিন সিনেটে বিল পাস, ক্ষুব্ধ চীন

প্রকাশ: নভেম্বর ২০, ২০১৯ সময়- ১০:৩৭ অপরাহ্ন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীদের মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে একটি বিল পাস হয়েছে। গত মঙ্গলবার সিনেটে কণ্ঠভোটে পাস হয় ‘হংকং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি অ্যাক্ট’ নামের বিলটি। এখন এটি প্রতিনিধি পরিষদে তোলা হবে। পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের অনুমোদন পেলে প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী হংকংয়ের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে এ বিলে। খবর: রয়টার্স।

চীনা কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়ন থেকে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষায় এ বিল পাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে মার্কিন সিনেটে ‘হংকং হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি অ্যাক্ট’ বিল পাসের কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে চীন। সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সুরক্ষায় বেইজিং পাল্টা পদক্ষেপ নেবে বলে হুশিয়ারিও দিয়েছে তারা। গতকাল বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গ্যাং শুয়াং বলেন, ‘এ পদক্ষেপ ঘটনা ও সত্যকে অবজ্ঞা করেছে, হংকং ও চীনের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ এবং দ্বিমুখী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ দেখিয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন ও যে প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালিত হয়, তার গুরুতর লঙ্ঘন। চীন এর নিন্দা জানাচ্ছে ও দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করছে।’ হংকং ও চীনের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপ করা বন্ধ করতেও বলেছেন তিনি।

হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের মানবাধিকার সুরক্ষার বিলে ট্রাম্প অনুমোদন দেবেন কি না, সে সম্পর্কে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, হংকংকে নিয়ে এমন বিল চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্য আলোচনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা হোয়াইট হাউজের উপদেষ্টাদের। অবশ্য ট্রাম্প ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চাইলেও সিনেটের সর্বসম্মত ভোট তাতে বড় বাধা হবে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

কয়েক মাস ধরে অঞ্চলটিতে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। গত ১৮ নভেম্বর ভোর থেকেই হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের তীব্র সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশ। একপর্যায়ে ব্যারিকেডের পেছন থেকে পুলিশের দিকে পেট্রোলবোমা ও তীর ছুড়ে মারে আন্দোলনকারীরা। এতে ইউনিভার্সিটির প্রবেশপথে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, পুলিশের ওপর হামলা বন্ধ করা না হলে তারা বিক্ষোভরতদের ওপর গুলি ছুড়বে। এমন পরিস্থিতিতেই পার্লামেন্টে বিল এনে হংকংয়ের বাসিন্দাদের মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে সমর্থনের অঙ্গীকার করে যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সব পক্ষের প্রতি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সোমবার হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে এমন আহ্বান জানানো হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি এক বিবৃতিতে বলেন, যেকোনো সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য।