বিশ্ব সংবাদ

হংকংয়ে চীনের সুরক্ষা আইনে সমর্থন এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের

শেয়ার বিজ ডেস্ক : ব্রিটেনভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড হংকংয়ের জন্য চীনের নতুন সুরক্ষা আইনকে সমর্থন জানিয়েছে। উভয় ব্যাংক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এ আইন হংকংয়ে দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করবে। খবর: বিবিসি। 

গত বুধবার এইচএসবিসি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী পিটার ওং বিশ্বব্যাপী বিতর্কিত এ আইনের পক্ষে একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন। এর আগে জাপানের নমুরা ব্যাংক বলেছিল, হংকংয়ে তাদের উপস্থিতি মারাত্মক পরীক্ষার মধ্যে ফেলেছে।

সাধারণত ব্যাংকের পক্ষে কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা অস্বাভাবিক বিষয়। বিশেষত চীনের সুরক্ষা আইনের মতো বিতর্কিত বিষয়ে, যাকে অনেকে মনে করেন হংকংয়ের স্বাধীনতার সমাপ্তি।

এইচএসবিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ আইন দেশটিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করবে। হংকং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংক এরই মধ্যে এটি সমর্থন করে একটি বিবৃতি দিয়েছে।

এইচএসবিসির পূর্ণরূপ হচ্ছে হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন। এর উৎপত্তি মূলত সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশের সময়। ১৯৯৩ সালে লন্ডনে এর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তর করা হলেও হংকং এখনও এর বৃহত্তম বাজার।

আরেক ব্রিটিশ ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডেরও এশিয়ায় শক্ত অবস্থান রয়েছে। ব্যাংকটিও এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা বিশ্বাস করি চীনের প্রস্তাবিত সুরক্ষা আইন হংকংয়ে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব আনবে।

এরই মধ্যে জাপানের বিনিয়োগ ব্যাংক  নরুমা জানিয়েছে, হংকংয়ে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের সমালোচনা উপেক্ষা করে হংকংয়ের নতুন জাতীয় সুরক্ষা আইন কার্যকর করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন চীনা আইন প্রণেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিকে তোয়াক্কা না করে এটা করা হয়। তিনি এ আইনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান। গত ২৮ মে চীনের আইনসভা দ্য ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস বেইজিংয়ের বার্ষিক অধিবেশনে খসড়া সিদ্ধান্তটির (আইন) অনুমোদন দিয়েছে।

আধা স্বায়ত্তশাসিত শহরটির (হংকং) স্থানীয় আইনসভা পরিষদকে পাশ কাটিয়ে নেওয়া এ পদক্ষেপটি হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি নেতাকর্মী ও বিরোধী রাজনীতিকদের হতাশ করেছে। অপরদিকে হংকংয়ের রাস্তায় বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশ ব্যাপক তৎপর। সেনাবাহিনীকে সংঘাতের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

হংকংয়ের বেশিরভাগ মানুষ, ব্যবসায়ী গ্রুপ ও পশ্চিমারা আশঙ্কা  প্রকাশ করেছেন, চীনের প্রস্তাবিত এসব আইন বা বিল চাপিয়ে দেওয়া হলে তাতে হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসনের ইতি ঘটবে। বিশেষ করে চীনের নিরাপত্তা-বিষয়ক এজেন্টদের হংকংয়ের ভেতরে কাজ করতে  দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ নিয়ে বড় রকমের উদ্বেগ রয়েছে। আশঙ্কা করা হয়, যারাই বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে ভিন্ন মত পোষণ করবে, তাদের বিরুদ্ধেই দমনপীড়ন চালানো হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..