বিশ্ব সংবাদ

হংকং ইস্যুতে ব্রিটেনকে চীনের হুশিয়ারি

শেয়ার বিজ ডেস্ক : নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন চালুর পর হংকংয়ে নাক না গলানোর ব্যাপারে ব্রিটেনকে হুশিয়ার করে দিয়েছে চীন। হংকংয়ের প্রায় ৩০ লাখ বাসিন্দাকে এরই মধ্যে নাগরিকত্বেও যে প্রস্তাব দিয়েছে তা চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘বড় ধরনের হস্তক্ষেপের’ শামিল বলে অভিযোগ করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত লিউ শিয়াওমিং। খবর: বিবিসি।
চীনের নতুন নিরাপত্তা আইনে হংকংয়ের ‘স্বাধীনতা’ ক্ষুন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ব্রিটেনের সাবেক উপনিবেশটি ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে সদ্যই জানিয়েছেন তিনি। এ প্রস্তাব অনুযায়ী, হংকংয়ে ব্রিটেনের পাসপোর্টধারী প্রায় তিন লাখ ৫০ হাজার বাসিন্দাসহ আরও ২৬ লাখ ‘উপযুক্ত’ বাসিন্দা ব্রিটেনের গিয়ে পাঁচ বছর বাস করতে পারবেন। এর এক বছর পর তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদনও করতে পারবেন।
গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটেনে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লিউ বলেন, ‘চীন কখনও ব্রিটেনে অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি। ব্রিটেনে সে নীতি মেনে চলবে বলে আমরা আশা করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্রিটেন ভালো করেই জানে যে হংকং আর ঔপনিবেশিক শাসনে নেই। হংকংকে চীনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এটি এখন চীনের অংশ। হংকং হস্তান্তর হয়ে যাওয়ার পর সেখানে ব্রিটেনের আর কোনো সার্বভৌমত্ব নেই এবং কোনো প্রভাব খাটানো বা তদারকির অধিকারও নেই।’ ফলে ব্রিটেনে হংকংবাসীদেও যে প্রস্তবার দিয়েছে তা আরেকবার ভেবে দেখবে এমনটিই আশা করেন বলে জানান লিউ। হংকং নিয়ে ব্রিটেন সরকার কাণ্ডজ্ঞানহীন সব মন্তব্য করছে বলেও লিউ সাংবাদিকদের কাছে দোষারোপ করেন। ব্রিটেনের দেওয়া প্রস্তাবের কী পাল্টা জবাব বেইজিং দেবে সে সিদ্ধান্ত ওই প্রস্তাবের বিস্তারিত জানার পরই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
চীনের পার্লামেন্ট গত মঙ্গলবার নতুন হংকং নিরাপত্তা আইন পাস করেছে। এ আইনের আওতায় হংকংয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ, কর্তৃপক্ষকে অবমাননা, সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে আঁতাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান করা হয়েছে। কিন্তু আইনটিকে হংকংয়ের বিশেষ স্বায়ত্তশাসন, স্বাধীনতার জন্য হুমকি এবং বৃহত্তর গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন ও ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন সমালোচকরা। চীনের এ আইন পাসের নিন্দা-সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ন্যাটোও।
ব্রিটেন বলছে, চীনের নতুন নিরাপত্তা আইন ১৯৯৭ সালে কার্যকর হওয়া চুক্তির লঙ্ঘন। যে চুক্তির আওতায় ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থার’ অধীনে হংকংয়ে ৫০ বছরের জন্য সুনির্দিষ্ট স্বাধীনতা বজায় রাখা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
চীনের নতুন আইন চালুর পর হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি কর্মী জশুয়া ওং আরও বেশি আন্তর্জাতিক সমর্থন কামনা করেন। তিনি হংকংবাসী এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোকে বেইজিংয়ের কাছে মাথানত না করারও আহ্বান জানান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..