সম্পাদকীয়

হজের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এখনই উদ্যোগ কাম্য

ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হজ। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ৩৭ হাজার মুসলিম নর-নারী হজ পালনের সুযোগ পাবেন। এরই মধ্যে এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু হজ নিয়ে প্রতিবছরই নানা অব্যবস্থাপনার খবর শোনা যায়। এবার যেহেতু হজযাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, তাই অব্যবস্থাপনার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই এ বিষয়ে আগাম সতর্কতা নেওয়া জরুরি বলে মনে করি।

শেয়ার বিজে গতকাল ‘সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের তিন প্যাকেজ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৭ হাজার এবং ব্যক্তি খাতের ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার মানুষ হজ পালন করতে যেতে পারবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হলেও বেসরকারিতে একটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই প্যাকেজের ব্যয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৫৭ হাজার টাকা। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে যারা হজযাত্রীদের সৌদি আরব যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন, তারা সরকারি অন্য দুটি প্যাকেজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নতুন প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবেন। এক্ষেত্রেই গোল বাঁধার আশঙ্কা বেশি। বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা মোয়াল্লেমরা হজে গমনেচ্ছুদের নানাভাবে হয়রানি করেন। বিশেষ করে তারা যতজন হজযাত্রীকে পাঠানোর সক্ষমতা রাখেন, তার চেয়ে বেশিসংখ্যকের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন। পরে সেসব মানুষ ঢাকা এসে নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। আবার অনেককে হাজী ক্যাম্প থেকেই ফিরে যেতে হয় নিজ বাড়িতে। হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণার কারণে নানা সময় বেশ কয়েকটি হজ এজেন্সিকে জরিমানাও করা হয়েছে। এমনকি এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিতের মতো ঘটনাও ঘটেছে। তারপরও প্রতারণার ঘটনা থেমে নেই।

আমাদের দেশের মানুষ অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ। হজের মতো একটি ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে তারা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে চান না। অর্থ যদি কিছুটা বেশিও ব্যয় হয়, তবুও তারা চান নির্বিঘেœ হজব্রত পালন করতে। হজে গমনেচ্ছুদের এ আবেগকে সবার শ্রদ্ধা করা উচিত। বিশেষ করে যেসব এজেন্সি হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পাঠানোর দায়িত্ব পালন করে, তাদের অবশ্যই এ বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত। পাশাপাশি এখন যেহেতু হজযাত্রীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে, তাই তাদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় জনবল পাঠানো উচিত। একই সঙ্গে সৌদি আরবে বাংলাদেশের যে দূতাবাস রয়েছে, তাদের উচিত হজকালীন সময়ে বাড়তি তৎপরতা নেওয়া। আশা করি হজযাত্রা শুরুর আগেই সরকার এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ  নেবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..