সম্পাদকীয়

হজ ব্যবস্থাপনা সহজ করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করুন

লাখো বাংলাদেশি প্রতি বছর হজ করার উদ্দেশে সৌদি আরব যাচ্ছেন। উদ্দেশ্যÑআল্লাহর নৈকট্য লাভ করা। মুসলমানদের অন্যতম এ ধর্মীয় অনুষ্ঠান বিশাল কর্মযজ্ঞও বটে। এ কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করা বিরাট চ্যালেঞ্জ। তবে পুরো প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে হওয়াটাও প্রত্যাশিত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেটি হচ্ছে না। প্রতি বছরই বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে, হজে গমনেচ্ছুদের ভোগান্তিও বাড়ছে। অবশ্য চলতি বছর অভিযোগের হার ছিল সীমিত। আগামী বছর হজ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ করতে ইতোমধ্যে কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। হজযাত্রীদের ঝক্কিমুক্তভাবে সৌদি আরব পাঠানোর লক্ষ্যে এসব উদ্যোগ সরকার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবে বলে আমরা আশা করি।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের আলোকে গতকালের শেয়ার বিজে ‘হজ ব্যবস্থাপনাকে সহজ করতে ১০ দফা পরিকল্পনা’ শিরোনামে খবর ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও উন্নত করতে ১০ দফা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি সরকারের রুট টু মক্কা ইনিশিয়েটিভের আওতায় বাংলাদেশের শতভাগ হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন বাংলাদেশে করানো, বাংলাদেশি হজযাত্রীর কোটা বাড়ানো, হজযাত্রীদের লাগেজ ব্যবস্থাপনা আরও দ্রুত ও উন্নত করা, হজের ব্যয় কমানো, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীর সংখ্যা বাড়ানোর মতো বিষয় রয়েছে। হজযাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক। এগুলো বাস্তবায়িত হলে তা হজ ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটাবে বলে প্রত্যাশা।

প্রতি বছর হজের মৌসুমে ফ্লাইট বিপর্যয়, হজ এজেন্সিগুলোর অনিয়ম, সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া, পাসপোর্ট জটিলতাসহ নানা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও রয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় হজযাত্রীদের। অনেকে সব প্রস্তুতি শেষ করেও যেতে ব্যর্থ হন। সারা জীবনের সঞ্চয় নিয়ে হজে যাওয়া প্রস্তুতি নেওয়ার পরও এভাবে সমস্যায় পড়লে হতাশার শেষ থাকে না। তবে নতুন যে পদক্ষেপের কথা বলেছেন মন্ত্রী, তা সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ ওই ১০ পরিকল্পনার মধ্যে হজ ও ওমরাহ আইন প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন, হজযাত্রীদের অপেক্ষার প্রহর কমানোসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপও রয়েছে।

প্রতি বছর হজের আনুষ্ঠানিকতায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য যে কারণগুলো চিহ্নিত করা হয় তার মধ্যে কিছু এজেন্সি ও ব্যক্তি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অনিয়ম বেশি নজরে আসে। আগামীতেও এমন সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে  দেওয়া যায় না। মন্ত্রীর উল্লিখিত পদক্ষেপের পাশাপাশি এ ব্যাপারেও বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কারও দায় পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারিভাবে ফ্রি হজে যাওয়া এবং সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। এছাড়া অতীতে হজে গিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ারও নজির রয়েছে। এমন মানসিকতা থেকে সবার বেরিয়ে আসা জরুরি। হজের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অব্যবস্থাপনা কাম্য নয়।

সর্বশেষ..