দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

হঠাৎ চট্টগ্রামে চালের বাজারে অস্থিরতা

করোনার প্রভাব

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: করোনার আতঙ্কে গত কদিনে চট্টগ্রামে পাইকারি বাজারে ক্রেতা সংকট দেখা যায়। ফলে একাধিক ভোগ্যপণ্যের ওপর ১০ থেকে ২০ শতাংশ দামও কমে যায়। কিন্তু একই সময় চালের বাজার উল্টোদিকে হাঁটছে। তিন দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির বস্তায় দাম বেড়েছে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, উত্তরবঙ্গের মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চালের বাজার অস্থির করছে।

পাহাড়তলী, খাতুনগঞ্জ-আসদগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, রোজা সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের আমদানি বাড়ে। এ সময় গুদামে মজুতের পাশাপাশি দাম বৃদ্ধিও শুরু হয়। গত দুই মাসে ছোলা, চিনি, সয়াবিন, পাম তেল, ডাল, মটরসহ অনেক ভোগ্যপণ্যের আমদানি ও সরবরাহ বেড়েছে। কিন্তু প্রথমদিকে ছোলা, চিনি, সয়াবিন, পাম তেল, ডাল, মটরের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও গত তিন-চার দিন ধরে কমে যায়। কিন্তু চালের বাজার দু-তিন দিনের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি ৩০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারগুলোয় সরেজমিনে দেখা যায়, নাজির চাল বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ২৮০০ টাকা, যা তিন দিন আগে বিক্রি হয়েছিল ২৫০০ টাকা। জিরা চাল বিক্রি হচ্ছে ২৫০০-২৫৫০ টাকায় বস্তা, যা তিন-চার দিন আগে ছিল ২১০০-২২০০ টাকা। মিনিকেট সিদ্ধ বিক্রি হয় ১৯৫০ টাকা, যা তিন দিন আগে ছিল ১৬০০ টাকা। স্বর্ণা সিদ্ধ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকায়, যা তিন দিন আগে ছিল ১৫০০ টাকা। মোটা সিদ্ধ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকায়, যা তিন দিন আগে ছিল ১১০০ টাকা। অপরদিকে বেতি আতপ চালের প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১৮৫০ টাকা, যা তিন দিন আগে ছিল ১৫০০-১৬০০ টাকা। ফাইজাম আতপ বিক্রি হচ্ছে ১৯০০ টাকায়, যা তিন দিন আগে ছিল ১৬০০ টাকা। মিনিকেট আতপ ২১০০ টাকা, যা আগে ছিল ২১০০ টাকা। আর জিরাগুঁড়া চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৭০০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৩০০ টাকা। কাটারি চাল বিক্রি হচ্ছে ২৮০০ টাকায়, যা তিন দিন আগে ছিল ২৪৫০ টাকা।

পাহাড়তলী চাল আড়ত ব্যবসায়ী সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন শেয়ার বিজকে জানান, এক সপ্তাহ ধরে চালের বাজার ঊর্ধ্বমূখী, প্রায় সব ধরনের চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ৫০ কেজির বস্তায় ২৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সবাই করোনাভাইরাস আতঙ্কের কথা বললেও কথাটা ঠিক নয়। চালের দাম বাড়ার পেছনে আড়তদারদের শতভাগ দায়ী করেন তিনি। কারণ, উত্তরবঙ্গের চালকল মালিকরা সিন্ডিকেট করে চালের বাজারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এর ফলে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

অপরদিকে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে অস্থিরতা চলায় খাতুনগঞ্জ-আসদগঞ্জ বাজারে ছোলা, চিনি, সয়াবিন, পাম তেল, ডালের দাম কম দেখা যায়। আগের মতো ক্রেতা না আসায় হঠাৎ করে এসব পণ্যের দাম কমে যায়।  পাইকারিতে ২০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে ভোজ্যতেলের দাম। এর মধ্যে সয়াবিন তেল ২০০ টাকা কমেছে মণপ্রতি। আর পাম অয়েলের দাম মণপ্রতি ৮০০ টাকা কমেছে। একইভাবে পাইকারিতে চিনির দাম ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। মসুর ডাল মণপ্রতি কমেছে ১৫০ টাকা। অপরদিকে চিড়ার দাম বেড়েছে মণপ্রতি ৪০০ টাকা। তবে পেঁয়াজ ও রসুনের বাজার নি¤œমুখী হলেও আদার বাজার ঊর্ধ্বমুখী দেখা যায়।

চাক্তাই শিল্প ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী এসএম হারুনুর রুশীদ শেয়ার বিজকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে করোনা-আতঙ্কে বিশ্ববাজারে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দাম কমেছে। এতে দেশের বাজারেও ছোলা, ডাল, তেল ও চিনির দাম কমে আসে। কিন্তু চালের বাজার গত কদিন ধরে বাড়তে শুরু করেছে। তবে চালের বাজার অযথা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রায় সময় সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা এমন কাণ্ড করে থাকে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..