সম্পাদকীয়

হলিডে মার্কেট কার্যকর হোক

ফুটপাত হকারের দখলে গেলে জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়ে। রাজধানীর ব্যস্ত এলাকার ফুটপাত হকারের দখলে। এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে রয়েছে ‘ছুটির দিনে পাঁচ স্থানে বসবে হলিডে মার্কেট’ শিরোনামে একটি খবর। এতে বলা হয়, সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারসহ অন্যান্য সরকারি ছুটিগুলোয় রাজধানীর নির্ধারিত পাঁচ স্থানে মার্কেট বসানো যাবে। এটি সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এরপর হকারদের নিজ দায়িত্বে সরে যেতে হবে। এছাড়া অন্যদিন সন্ধ্যা ৬টার আগে ফুটপাতে হকার বসলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ।

রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান, দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকাসহ ব্যস্ত এলাকার ফুটপাত দখল করে হকাররা ব্যবসা করছেন। ফুটপাত ছাড়াও রাস্তা দখল করে ব্যবসা করছেন তারা। এতে পরিবহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পাশাপাশি সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। যানজট কমানোর জন্য হকারদের সরিয়ে দেওয়ার বিকল্প নেই। কাছের পথ অনেকে হেঁটে যেতে চান। হকারদের কারণে তাও সম্ভব হয় না। হকাররা অনেক সময় পথচারীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গেলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। গতকালও তারা উচ্ছেদ কাজে বাধা দেন বলে জানা যায়।

উল্লেখ্য, হলিডে মার্কেট এর আগে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে চালু করা হয়েছিল। প্রথমে এটা জনপ্রিয়তা পায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ সময়ের দিকে আস্তে আস্তে হকাররা আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, এ মার্কেট ব্যবস্থা টিকে না থাকার জন্য ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতা দায়ী। হলিডে মার্কেট বিশ্বের নানা দেশে চালু রয়েছে। এ ব্যবস্থা বাংলাদেশে থাকলে তা অনেকের জন্য ভালো হবে বৈকি। হকারদের শৃঙ্খলায় নিয়ে আসতে হলে এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। অনেক তরুণ এ পেশায় আসছেন। সরিয়ে দেওয়ার সময় তারা অভিযোগ করেন, বিকল্প কর্মসংস্থান করে দিতে হবে। এটা যৌক্তিক দাবি হতে পারে না অনেকের মত। তাদের পুনর্বাসনের জন্য হকার্স মার্কেট করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ মার্কেটেও প্রকৃত হকাররা জায়গা পান না। ধনী ব্যবসায়ীরা এটার নিয়ন্ত্রণে থাকেন। হকার মার্কেটকে ঘিরে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি হয়। অনেক দোকানের মালিক অধিক মুনাফার লোভে রাস্তায় হকারদের বসিয়ে দেন। এতে মূলধারার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হলিডে মার্কেট ব্যবস্থায় সুশৃঙ্খলতা থাকুক। গ্রাহক ও হকারদের স্বার্থে নজরদারি বাড়াক সংশ্লিষ্টরা, এটাই প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..